শিরোনাম:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতি, ‘জুলাই বীরত্ব’ সম্মাননায় ভূষিত দৈনিক আমার দেশের চার সাংবাদিক

সংবাদ৫২ ডেস্ক
অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়ঃ ০৬:৫৯
photo

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাহসী ভূমিকা ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে দৈনিক আমার দেশের চার সাংবাদিকসহ প্রায় এক হাজার দুই শতাধিক আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবার ও সাংবাদিককে ‘জুলাই বীরত্ব’ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে নির্ভীক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

সম্মাননা পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক আমার দেশের মাল্টিমিডিয়া শিফট ইনচার্জ আরমান মুজাহিদ, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আশরাফুল আমিন, জাহিদুল ইসলাম পাপ্পু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাহির কাইয়ুম। জুলাই আন্দোলনের সময় সাহসী সাংবাদিকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাদের ‘বার্তাবীর’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার ফেলানী হত্যা দিবসে রাজধানীতে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে এবং জেএএম সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি, শহীদ পরিবার ও সাংবাদিকদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের তথ্যমতে, দিনব্যাপী কর্মসূচিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে জুলাই মাসে সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ১০২ জন সাংবাদিককে ‘বার্তাবীর’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

সংগঠনটির সদস্যসচিব আলামিন আটিয়া ও ডাকসুর সদস্য তাজিনুর রহমানের সঞ্চালনায় এবং ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তারেক আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেএএম সংস্থার চেয়ারম্যান মেহরিন উজমা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সফলতার কারণেই আজ আমরা মুক্ত। তিনি শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং নির্বিচারে গুলি চালানোর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে এই সম্মাননার মাধ্যমে পাশে থাকতে পেরে তারা আনন্দিত এবং ভবিষ্যতেও আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিগবাহ বলেন, জুলাই শহীদ ও বিচার নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে তার পরিণতি হবে দ্বিতীয় জুলাই। তিনি বাংলার বুকে বিদেশি আধিপত্যবাদ কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন।

সভাপতির বক্তব্যে আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. তারেক আজিজ বলেন, দেশের প্রান্তিক অঞ্চল থেকে দীর্ঘ দেড় বছর পর আহত জুলাইযোদ্ধারা এসে জুলাই আন্দোলনকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছেন। তিনি সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলন আজ নানা ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছে; একে রক্ষা করতে, বিচার নিশ্চিত করতে এবং আগ্রাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জুলাইযোদ্ধাদের কোনো বিকল্প নেই। এ সময় তিনি জুলাইযোদ্ধাদের নেতৃত্বে জেলা, উপজেলা এবং পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন