অফিস ডেস্ক
কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় ধরনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্ক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইউটিউবের তুলনায় এক্সে আরও বেশি আয় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
সম্প্রতি এক ব্যবহারকারীর মন্তব্যের জবাবে ইলন মাস্ক এই ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এক্সের প্রোডাক্ট হেড নিকিতা বিয়েরকে। এর পরপরই কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে এক্সে আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সব বয়সী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিনোদনের পাশাপাশি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব এখন অনেকের জন্য প্রধান আয়ের উৎস। অসংখ্য মানুষ ভিডিও ও বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে একই কনটেন্টে ইউটিউব বা ফেসবুকের তুলনায় এক্সে আয়ের সুযোগ এখনো তুলনামূলকভাবে সীমিত।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এক্সে আয় করতে হলে ন্যূনতম ৫০০ ফলোয়ার, ৫ মিলিয়ন ইমপ্রেশনসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। এসব শর্তের কারণে অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরই এ প্ল্যাটফর্মে আয় নিয়ে পুরোপুরি আশাবাদী হতে পারছিলেন না। এই বাস্তবতায় ইলন মাস্কের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
মাস্ক জানিয়েছেন, এক্সে একটি নতুন পেমেন্ট সিস্টেম আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ইউটিউবের চেয়েও বেশি আয় করা সম্ভব হতে পারে। তিনি স্বীকার করেন, বর্তমানে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তবে সেগুলো দ্রুত দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নতুন পেমেন্ট ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অপব্যবহার সহ্য করা হবে না।
তার মতে, ভুয়া এনগেজমেন্ট, কৃত্রিম ভিউ বা ফলোয়ার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। প্রকৃত ভিউ, বাস্তব ফলোয়ার এবং কনটেন্টের মানের ভিত্তিতেই আয় নির্ধারণ করা হবে। ইলন মাস্কের দাবি, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এক্স থেকে আয় ইউটিউবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে বাস্তবে এই পরিকল্পনা কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে এখনো কৌতূহল ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।