অফিস ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে তীব্র থেকে চরম তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ দাবানলের আশঙ্কা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯–২০২০ সালের প্রলয়ংকরী ‘ব্ল্যাক সামার’-এর পর দেশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কুইন্সল্যান্ড বাদে প্রায় সব রাজ্যেই জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, আর ভিক্টোরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আগুনের ঝুঁকি ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ বা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোয় সাড়ে চারশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পার্ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিন অস্ট্রেলিয়ায় পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হতে পারে। সিডনিতে শনিবার (১০ জানুয়ারি) তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কিছু উপকূলীয় শহরে পারদ উঠেছে ৪৯ ডিগ্রিতে। গত ছয় বছরের মধ্যে মেলবোর্নও বুধবার তাদের উষ্ণতম দিন প্রত্যক্ষ করেছে। প্রবল বাতাস ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস দাবানলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত দমকলকর্মীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসে গত কয়েক দিন ধরে একাধিক দাবানল নেভাতে চলছে টানা লড়াই। বিশেষ করে ভডোঙ্গা শহরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এক ডজনের বেশি বিমান দিয়ে আকাশ থেকে পানি ঢালা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের আগুন জ্বালানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে শুষ্ক বজ্রপাতের সমন্বয়ে দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়া যে সংকটের দিকে এগোচ্ছে, তা কয়েক দশকের মধ্যে নজিরবিহীন।
ব্যুরো অব মেটিওরোলজির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ২০১৯ সালের ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলে মাইলের পর মাইল বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছিল। এবারের তাপপ্রবাহ ও অগ্নিঝুঁকির তীব্রতা সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া ও তাসমানিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপপ্রবাহ চরমে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।