অফিস ডেস্ক
দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সেখানে তাপমাত্রা নেমেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ও ১১টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
শহর ও গ্রামাঞ্চলজুড়ে শীতের তীব্রতা স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে চা–বাগান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শীতের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। সন্ধ্যা নামলেই ঘন কুয়াশা চারপাশ ঢেকে ফেলছে। ভোরবেলায় কাজে বের হওয়া খেটে–খাওয়া মানুষজন পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। প্রচণ্ড শীতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
সকালে ঘন কুয়াশায় সড়কগুলো ঢেকে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। শীতের কুণ্ডলিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, চা–শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। কাজ বন্ধ থাকলে সংসার চলে না, আবার কাজে বের হলেও ঠাণ্ডার যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। ফলে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই বাইরে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে, স্বাভাবিক জনজীবনে নেমে আসছে স্থবিরতা। শীত নিবারণের জন্য কেউ খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন, কেউ আবার আশ্রয় নিচ্ছেন চায়ের দোকানে। এদিকে তীব্র শীতের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক মানুষ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌমিতা বৈদ্য জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রেকর্ড রয়েছে। ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সেখানে তাপমাত্রা নেমেছিল মাত্র ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ৩.৩ ডিগ্রি, ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ ডিগ্রি, ২০০৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৫.২ ডিগ্রি, ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি ও ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। বর্তমান শৈত্যপ্রবাহ সেই অতীতের কঠিন শীতের স্মৃতি নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।