অফিস ডেস্ক
রাজধানীর ভাটারা এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি মো. জোবায়ের হোসেন (২৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, দুই দফা মারধরের পর নাঈম কিবরিয়ার মৃত্যু হয়। সোমবার (৫ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে আসামি জোবায়ের হোসেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে ভাটারা থানাধীন এলাকায় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নাঈম কিবরিয়া মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে যান। তাকে থামতে বলা হলেও তিনি দাঁড়াননি। পরে তাকে আটক করে প্রথম দফা মারধর করা হয়। এরপর সেখান থেকে তুলে এনে ঘটনাস্থলে পুনরায় মারধর করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং একপর্যায়ে মারা যান। জবানবন্দিতে জোবায়ের দাবি করেন, তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয় ছিল না এবং তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বশেই এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাঈম কিবরিয়া (৩৫) পাবনা জেলা জজ আদালতের একজন আইনজীবী ছিলেন। এ ঘটনায় পরদিন ১ জানুয়ারি তার বাবা গোলাম কিবরিয়া ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ৪ জানুয়ারি গুলশান এলাকা থেকে র্যাব–১ অভিযান চালিয়ে আসামি জোবায়ের হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানান, সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় আইন অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সহকর্মী আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট মহল।