অফিস ডেস্ক
বর্তমানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কৃত্তিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
রোববার (৪ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়– লক্ষ্য করা যাচ্ছে, খুচরা পর্যায়ে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক এর চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি লক্ষ্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আজ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা এবং এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বিকেল ৩টায় জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে চলমান এলপিজি সংকট বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়, যাতে নিচের পর্যবেক্ষণগুলো উঠে এসেছে-
১) দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত আছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ব বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকট ও কিছু কিছু কার্গোর (জাহাজ) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আমদানি পর্যায়েও কিছু সংকট উদ্ভূত হয়েছে।
২) প্রাপ্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বরে এলপিজির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ ডিসেম্বরে আমদানির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বাড়লেও বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নাই।
৩) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এ মাসে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করতে পারে জেনে খুচরা বিক্রেতারা এ সংকট তৈরি করেছে মর্মে এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এবং আমদানিকারকরা জানিয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ থেকে ১ হাজার ৩০৬ টাকায় বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
৪) ইতোমধ্যে গ্রিন ফুয়েল বিবেচনায় অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবির বিষয়ে সংস্লিষ্ট (এলসি সহজ করা, আরোপিত ভ্যাট হ্রাস করা ইত্যাদি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দাবিগুলো নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এলপিজি বাজারে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে আজ বিবৃতি প্রদান করবে। এছাড়া, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কেবিনেট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
আশা করা যাচ্ছে, এ সব পদক্ষেপের ফলে এলপিজির দাম শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এর আগে, রোববার জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিআরসি)। এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানায় সংস্থাটি।
বাড়তি দামের বিষয়ে বিআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন– ব্যবসায়ীদের কথা অনুযায়ী, উৎপাদন পর্যায়ে নির্ধারিত দামেই তারা পরিবেশকের কাছে বিক্রি করছেন। খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামের বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অভিযান চালাচ্ছে। উৎপাদন পর্যায়ে বাড়তি দামের অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।