অফিস ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল–এর মধ্যে চলমান সংঘাত আরও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই পক্ষই একে অপরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রাণহানি ও সম্পদ ক্ষতির ঘটনা বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি দেশে হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত বড় পরিসরে গড়ে উঠলে এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ বা এমনকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
ইসলামি বিশ্বের কিছু অংশ এই পরিস্থিতিকে কেয়ামতের পূর্ব লক্ষণ হিসেবে দেখছে। কারণ, হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর কিছু হাদিসে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। একটি প্রসিদ্ধ হাদিসে বলা হয়েছে, খোরাসান থেকে কালো পতাকা নিয়ে একদল সৈন্য আগমন করবে এবং তারা বায়তুল মুকাদ্দাসে পতাকা উত্তোলন করবে। ইতিহাসবিদদের মতে, খোরাসান বলতে বোঝানো হয়েছে বর্তমান ইরান, আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের কিছু অংশকে।
অপর হাদিসে বলা হয়েছে, খোরাসান থেকে আগত সেই কালো পতাকার বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন ইমাম মাহাদী, এবং তারা বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয় করবেন। এই ঘটনার মাধ্যমে আল-মালহামা নামক যুদ্ধ শুরু হবে, যা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। হাদিস অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইমাম মাহাদীর নেতৃত্বে পুনরায় ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে।
ইরান ও ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অনেক ইসলামি বিশ্লেষক প্রশ্ন করছেন, এটি কি সেই পূর্বাভাসিত যুদ্ধের সূচনা? বিশেষ করে যখন খোরাসানের মতো অঞ্চলের সামরিক শক্তি সরাসরি ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ভূমিকা নিচ্ছে। তবে হাদিসের আলোকে একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন, পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিটি মোড় অনেকের কাছে হাদিসে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতিফলন মনে হচ্ছে।