শিরোনাম:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন পিতা-মাতার কার্বন কপি

সংবাদ৫২ ডেস্ক
অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | সময়ঃ ১২:০২
photo

দেশে যখন চীনপন্থী, মার্কিনপন্থী, ভারতপন্থী, পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির শ্রোতে ভাসছিল; তখন তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফিরে দেশজ নেতা হিসেবে ঘোষণা দেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
লন্ডন থেকে ফিরে দেশের মাটিতে পা রেখেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বক্তব্য দিয়ে সারাবিশ্বে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। এর আগে প্রবাসে থেকেই তিনি দেশ বিনির্মাণে ৩১ দফা ঘোষণা দিয়েছিলেন। বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস যেতে না যেতেই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় নিয়ে দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যান। দীর্ঘ ১৯ বছর জুলুম নির্যাতনে নিষ্পেষিত বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ১৭ বছর প্রবাস জীবন থেকে দেশে ফেরার পর থেকে তার প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল চমক। জোটগত প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তৃতা, মঞ্চে সাধারণ চেয়ারে বসা, ভোটারদের প্রতিশ্রুতি এমনকি মন্ত্রিসভা গঠনেও তিনি চমক দেখান। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অফিসে উপস্থিতি এবং কর্মব্যস্ততায় তিনি একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, তারেক রহমান যেন পিতা স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার কার্বনকপি। বিমান থেকে নেমে প্রথম ভাষণেই তিনি ক্ষমতায় গেলে মহানবী (সা.) ন্যায়পরায়ণতায় দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দায়িত্বভার গ্রহণ করেও তিনি একই পথে চলার কথা বলছেন। শুধু কী তাই, ৭৮ বছরের মধ্যে তিনিই প্রথম ভাষা শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেই তিনি প্রতিদিন সবার আগে অফিসে হাজির হচ্ছেন; দ্রুত গতিতে একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। দীর্ঘ দুই দশক পর যেন বাংলাদেশের মানুষ একজন দেশপ্রেমিক দেশজ নেতাকে পেলেন।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্বপ্নদ্রষ্টা তারেক রহমান কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। তার অবস্থা এমন যে, দেশের মানুষের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা বিতর্ক যথেষ্ট নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে আরও পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনা প্রয়োজন। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মতো দেশের ১১তম নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত অফিস করছেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়াও প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে সশরীরে অফিস করে যাচ্ছেন। সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ২০১ নম্বর কক্ষে তার অফিস। সেই অফিসে বসছেন নিয়মিত। তার পাশেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষ। প্রথম দিন সেখানে মন্ত্রিসভার বৈঠকও করে ফেলেছেন। পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোও করছেন সচিবালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সারা দিন কর্ম ব্যস্ত দিন পার করের সচিবালয়ে। ওই দিন বেলা ১২টা ৩১ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সারাদিন একাধিক মিটিং করে সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তিনি সচিবালয় ছাড়েন। ইতোমধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের নতুন নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চাওয়া হয়েছে। এ গুলো আসার পরে নতুন প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগনের জন্য কাজ শুরু করেছেন। দেশের মানুষের জন্য নিজের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করছেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ফিরোজ সরকার বলেন, আসলে আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে যে ভাবে অফিস করেছেন সচিবালয়ে ঠিক আমাদের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ভাবে সচিবালয়ে অফিস করছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভোটের আগে বলেছেন, নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর দেশে এসে বলেছে, “আমি বলেছিলাম, যেমন ৬২ বছর আগে মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’, আমি বলেছিলাম ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করলে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বশীল ভাবে কাজ করতে পারে। আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর আই হ্যাভ এ প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
গতকাল সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রথম দিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সচিবালয়ের ২০১ নম্বর কক্ষে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসেই তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনার নির্দেশনা দেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২০১ নম্বর কক্ষটি প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কক্ষে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভিডিও কনফারেন্সিং সুবিধা এবং দাপ্তরিক নথি সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে। প্রথম দিন সচিবালয়ে দুপুর বেলা ঢুকলেও তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বেলা ১২টার দিকে জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানান। সচিবালয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও যোহরের নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেল ৩টায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় প্রধান্য দিয়ে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করার নির্দেশ দেন তারেক রহমান। বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে আছর এবং মাগরিব নামাজ আদায় করেন তারেক রহমান। ওই দিন সচিবালয়েই জাতির উদ্দেশ্য দেওয়া তার ভাষণ রেকর্ড করা হয়। পরে সাড়ে সাতটার দিকে বের হন। প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় দিন সচিবালয়ে আসেন গত বৃহস্পতিবার। সকাল সাড়ে ৯টায় এনএসআই মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ১০টায় ডিজিএফআই মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ, সাড়ে ১০টায় তিন বাহিনীর প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাড়ে ১১টায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ২টায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি’ বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অংশ নেন। শুধু অফিস দিনে নয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করবেন বলে জানান তারেক রহমান। গত শনিবার তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম অফিস করেন। তৃতীয় দিন সকালে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মকর্তারা জানান, সকাল ৯টা ৫ মিনিটে অফিসে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে তৃতীয় দিন ২০১ নম্বর কক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও সচিবের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ১১টায় সউদী আরবের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ১২টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষ ২১৬ নম্বর কক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বিষয়ে সভা, সাড়ে ১২টায় ২০১ নম্বর কক্ষে স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও নজরুল ইসলাম খানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের সূচি ছিল। এরপর ২টায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মকর্তারা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় উপস্থিতি সরকারের কর্মতৎপরতার ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আগামী দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,খুব শিগগিরই তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করবেন এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে উপস্থিতি উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান। অফিসে এতো সকালে প্রধানমন্ত্রীকে অফিসে দেখে অনেকে অভিভূত হয়েছেন। অতিরিক্ত প্রেস সচিব রুমন বলেন, একজন সাংবাদিক সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার ফেইসবুকে স্ট্যাটাস বলেন,প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আসার ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে ১৫ মিনিট আগেই সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন, সেটা উনি (ওই সাংবাদিক) জানেন না।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিসে এসে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টারা কারা কারা অফিসে এসেছেন তার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সকলে অফিসে উপস্থিত হন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এর পরদিন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার দপ্তরে দুইদিন অফিস করেন। ছুটির দিন শনিবার তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেছেন।

শেয়ার করুন