অফিস ডেস্ক
জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সন্ত্রাসের দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- সংগঠনটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারক অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরেন। এর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। এছাড়া সবার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়। শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করেন।
এরপর আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। এ মামলায় আনা অভিযোগের সঙ্গে তাদের মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ না থাকায় আসামিদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশের জন্য ২২ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
গত ৮ জানুয়ারি আসামিদের আত্মসমর্পণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তারা হাজির হননি। পরে পলাতক বিবেচনায় আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এছাড়া পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা ছিল। তবে স্থায়ী-অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে কাউকে খুঁজে পায়নি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পরে ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।