অফিস ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হওয়ার পর রবিউল ইসলাম (৩৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক শেষে তার মরদেহ বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জহুরপুরটেক সীমান্তে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কোম্পানি পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়। নিহত রবিউল ইসলাম সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের এজাবুর রহমানের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, জহুরপুরটেক সীমান্তে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিএসএফ রবিউলের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে দুই দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় বৈঠকেই বিএসএফ দাবি করেছে, হঠাৎ খিঁচুনি উঠে অসুস্থ হয়ে রবিউল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (৪ জানুয়ারি) ভোররাতে সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের জহুরপুরটেক সীমান্ত দিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল অবৈধভাবে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নুরপুর এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার বিএসএফের পাতলা টোলা সাব-ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিলে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও রবিউল ইসলাম বিএসএফের হাতে আটক হন।
আটকের পর রোববার সকালে রবিউলের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিকেলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিজিবির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রথম দফা পতাকা বৈঠকে বিএসএফ রবিউলের মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে। পরদিন সোমবার রাতে দ্বিতীয় দফা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তার মরদেহ বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনাটি ঘিরে সীমান্ত এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে।