অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, সময়ঃ ১১:২০
একের পর এক জালিয়াতির ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ চারটি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া। গত ৮ জানুয়ারি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে একাধিক অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম। রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রকাশিত ‘নিউজ ডটকম ডটএইউ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের শিক্ষার্থীরাও এখন থেকে কঠোর ভিসা যাচাইয়ের আওতায় পড়বেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ভর্তি হওয়া মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এই চার দেশের নাগরিক। অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের সাবেক উপসচিব আবুল রিজভি জানান, এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাইয়ের স্তর ‘লেভেল-টু’ থেকে উন্নীত করে ‘লেভেল-থ্রি’ করা হয়েছে। এর ফলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোরতা আরোপ করা হবে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, “২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জালিয়াতির সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত রাখা যাবে।” ওই মুখপাত্র আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকার চায়—দেশটিতে অবস্থানকালে সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী যেন অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা লাভ করেন। এজন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থী ভিসা কর্মসূচিতে একটি শক্ত ও স্বচ্ছ কাঠামো থাকা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে অর্থ ব্যয় করে সেরা মানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। জানা গেছে, গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল ভারত সফর করেন। সফর শেষে তিনি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপরই শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়ায় এই কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার ‘সিম্পলিফাইড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেইমওয়ার্ক’ (এসএসভিএফ) অনুযায়ী বিভিন্ন দেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে একটি ‘এভিডেন্স লেভেল’ প্রদান করা হয়। এসব সূচকের মধ্যে রয়েছে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার, ভিসা বাতিলের হার, শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে থেকে যাওয়ার প্রবণতা এবং পরবর্তী সময়ে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করার হার। এ ক্ষেত্রে ‘ইএল থ্রি’ রেটিংয়ের অর্থ হলো—ভিসা আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পূর্ববর্তী শিক্ষাজীবনের বিস্তারিত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। ফলে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার ভিসা প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
© sangbad52 ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ