সিলিন্ডার গ্যাসের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বরিশালে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। সরকারি নির্ধারিত মূল্য এক হাজার ৩৫০ টাকায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না; খুচরা বাজারে একেকটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায়। তাও আবার অনেক দোকানে গ্যাস মিলছে না, ফলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহে গ্রাহকদের দোকান থেকে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে।
বরিশালের বিভিন্ন খুচরা দোকান ঘুরে দেখা গেছে, বসুন্ধারা, যমুনা, গ্রিন নাভানা, ডেলটা, টোটালসহ বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার গ্যাসের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অনেক কম। দেশে নিবন্ধিত ১৮টি গ্যাস কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ছয়টি কোম্পানি বাজারে সিলিন্ডার সরবরাহ করছে, তাও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল পরিমাণে। এর ফলে পুরো নগরীতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বরিশাল নগরীর নতুন বাজার এলাকার সান গ্যাস সিলিন্ডারের পরিবেশক রবিউল আলম জানান, বর্তমানে চাহিদার ছয় ভাগের এক ভাগও সরবরাহ করছে না গ্যাস কোম্পানিগুলো। তার দোকানে প্রতি চার-পাঁচদিন পরপর এক ট্রাক সিলিন্ডারের প্রয়োজন হলেও খালি ট্রাক নিয়ে ঢাকা গেলে কোম্পানি থেকে মাত্র ৭০ থেকে ৭২টি সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে। এতে খালি ট্রাক ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে এবং পরিবহন ব্যয় সমন্বয় করে পাইকারি পর্যায়ে প্রতিটি সিলিন্ডার এক হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, সরবরাহ কম থাকায় বরিশালে গ্যাসের সংকট দিন দিন বাড়ছে।
খুচরা দোকানগুলোতে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস এক হাজার ৫৫০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন-চারটি দোকান ঘুরেও অনেক সময় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন গ্রাহকরা। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাড়তি দাম দিয়েও সিলিন্ডার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন হোটেল মালিক, চায়ের দোকানদারসহ বাসাবাড়ির ভোক্তারা।
নগরীর কাউনিয়া এলাকার খুচরা গ্যাস বিক্রেতা বাবুল সরকার জানান, বরিশালে গ্যাস সংকট এখন তীব্র পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরবরাহ কম থাকায় তিনি প্রতি সিলিন্ডার এক হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি করছেন, যদিও কোনো কোনো দোকানে তা এক হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরেক খুচরা বিক্রেতা হানিফ বলেন, সকাল থেকে অনেক গ্রাহক গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন, এতে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের প্রভাব পড়েছে রান্নার বিকল্প ব্যবস্থায়ও। গ্যাস না পেয়ে অনেক গ্রাহক এখন ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন। নগরীর কয়েকটি ইলেকট্রনিক্সের দোকান ঘুরে জানা গেছে, ইলেকট্রিক চুলার বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিক্রেতা মামুন শেখ জানান, গত এক সপ্তাহে তাদের দোকানে ইলেকট্রিক চুলার বিক্রি বেড়েছে এবং গত দুদিনে চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বরিশালে সিলিন্ডার গ্যাসের এ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা ও সরকারি মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

অফিস ডেস্ক