২৪ ঘন্টাই খবর

মুন্সীগঞ্জ রজতরেখা নদীতে চাদাবাজি। 

রজতরেখা নদীতে চাদাবাজি।

 

সংঘর্ষে আহত ১

 

 

তোফাজ্জল হোসেন শিহাব,

 

 

মুন্সীগঞ্জের রজত রেখা নদীতে চলছে বালুবাহী বাল্কহেড, ড্রেজার সহ বিভিন্ন নৌযান থেকে প্রকাশ্যে চাদাবাজি। এ এক আজব ব্যবস্থা। বছরের পর বছর চাঁদাবাজি করে চলছে একটি চক্র । চাঁদা না দিলে নিরীহ মানুষকে মারধর করা হচ্ছে। প্রাণভয়ে কেউ অভিযোগ করতে পারছে না। আর প্রশাসন বলছে ‘অভিযোগ পাইনি’। সুতরাং ঘটনা নির্বিঘ্নে ঘটে চলেছে।

 

 

 

সম্রতি ছোট মাকহাটি এলাকার রজত রেখা নদী হয়ে পদ্মা, মেঘনা ধলেশ্বরীসহ বিভিন্ন নদী শাখা নদীতে অসংখ্য নৌযান চলাচল করে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে চাদাবাজি, ছিনতাই যেন তুচ্ছ ব্যাপার। এই রুটে চলাচলকারি প্রতিটি বাল্কহেড সহ বিভিন্ন নৌযানীরা ঝুকি নিয়েই এ পথে চলাচল করে। তথ্যসুত্রে  জানা গেছে স্থানীয়  পিতা মৃত নওশেদ মল্লিকের দুই ছেলে রাজা মল্লিক(৩৬) শুভ মল্লিক (৩০) এলাকার সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছে। গোপন সুত্রে আরো জানা গেছে তাদের ছত্রছায়ায় এরাকায় দিনে ও রাতে চলে বিভিন্ন কায়দায় চাদাবাজি ও ছিনতাই। এলাকার প্রতিটি মানুষ তাদের কাছে জিম্মি। উগ্র ও উশৃঙ্খল চলাফেরায় স্থানীয় লোকজন অতিষ্টতায় দিনযাপন করছে বলে জানান এলাকাবাসি।

 

 

প্রশাসনের কর্তারা ‘অভিযোগ পাওয়া যায়নি’ বললে তা তথ্যের অভাব নির্দেশ করে না। তা দায়বদ্ধতা ও কর্তব্যবোধের অভাবকেই বোঝায়। কোথায় চাঁদাবাজি হচ্ছে তা জানাই তাঁদের কাজ। সবার চোখের সামনে যে দুর্নীতি, অপরাধ, তা নিয়ে কখনো শোরগোল উঠলেই কর্মকর্তারা বাঁধা গৎটি বাজিয়ে দেন, ‘অভিযোগ তো আসেনি’।

 

 

তবে শুভ ও রাজা মল্লিকের এই চাদাবাজি ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় গত সোমবার  লিখিত অভিযোগ করেছেন মাকহাটি এলাকার বাল্কহেড ড্রেজার ব্যবসায়ী মোঃ লুৎফর রহমান গাজী। থানা অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী লুৎফরের কাছ থেকে শুভ ও রাজা মল্লিক প্রতি বাল্কহেড ও ড্রেজার থেকে চাদা দাবি করে। এতে চাদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষীপ্ত হয়ে রজতরেখা নদী পাড় সংলগ্ন বাদী লুৎফরের বড় ভাই কে শাহিন গাজি কে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন। পরবর্তিতে শাহিন গাজির পিতা দিদার হোসেন গাজিকে আহত করে। সেইসাথে শাহিনের চাচাতো ভাই আল আমিনকেও আহত করে। ডান হাতে প্রচন্ড আঘাতে তার চারটি সেলাই পড়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

শুভ ও রাজা মল্লিক একপর্যায়ে চাদার টাকা না পেয়ে তাদের বাল্কহেড অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এলাকাসুত্রে জানা গেছে, শুভ ও রাজা মল্লিক মাদক ও চাদাবাজি মামলা সহ একাধিক মামলার আসামি। এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাদা দাবি সহ এলাকায় মাদক বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে। তাদের অত্যাচারে রেহাই মিলছে না কারোরিই। এ থেকে আদৌ পরিত্রান পাবে কিনা শংকায় এলাকাবাসি।

 

 

হতাহতের ঘটনায় বাদি লুৎফর গাজি বলেন, আমরা শুভ ও রাজা মল্লিকের যন্ত্রনায় এলাকায় কোন কিছুই করতে পারি না। তারা আমাদের কাছে বেশ কিছুদিন ধরে চাদা দাবি করছে। চাদা না দেওয়ায় হতাহতের মত ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।

 

 

বিবাদি শুভ মল্লিক ও রাজা মল্লিকের সাথে এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায় নি।

 

 

 

সদর থানায় বাদি পক্ষের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিত পুলিশ কর্মকর্তা জুলহাস বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে, আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।

 

 

সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান , বিষয়টি আমি অবগত আছি। তবে ঘটনাস্থলে আমাদের কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষটির সত্যতা জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

 

 

 

 

রজত রেখা নদীতে বালুবোঝাই শতাধিক বাল্কহেড ও নৌকা থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। নদীর মধ্যে ছোট ছোট নৌকায় চাঁদা আদায়কারীরা অবস্থান করে। ওই এলাকা পার হওয়ার সময় বালুবোঝাই নৌকা ও বালুবোজাই বাল্কহেড থেকে এক হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করে। তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্র থাকে। চাঁদা না দিলে মাঝিদের বেদম মারধর করা হয়। মাঝিরা প্রাণভয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিতে পারেন না।

 

 

এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। সেটি করতে হবে প্রধানত প্রশাসনকে। ‘অভিযোগ পাইনি’ বলে দায় এড়ানো যাবে না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.