২৪ ঘন্টাই খবর

বেকার নারীদের আশার আলো দেখাচ্ছে নারী উদ্যোক্তা ফারজানা।

বেকার নারীদের আশার আলো দেখাচ্ছে নারী উদ্যোক্তা ফারজানা

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর পৌর এলাকার বড়খারচর মহল্লায় প্রতিষ্ঠিত “ফারজানা ফ্যাশন গার্মেন্টস” এর স্বত্বাধিকারী ও “ফারজানা সেলাই ট্রেনিং সেন্টার” এর পরিচালক ফারজানা আক্তার এলাকার গরীব অসহায় বেকার নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলার প্রচেষ্টায় ধাপে ধাপে বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছেন। এর ফলে কুলিয়ারচরে তৈরি হচ্ছে কর্মহীন নারীদের কর্মসংস্থান।

 

জানা যায়, ফারজানা আক্তার তার প্রতিষ্ঠিত সেলাই ট্রেনিং সেন্টারে কর্মহীন নারীদের সেলাই, নকশীকাথাঁ ও হাতের কাজের উপর বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষন দিয়ে আসছেন। এ ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে “ফারজানা ফ্যাশন গার্মেন্টস”-এ বেশ কিছু মহিলা পোশাক তৈরি করে আসছেন।

 

বড়খারচর গ্রামের মৃত আব্দুর রাশিদের কন্যা নারী উদ্যোক্তা ফারজানা আক্তার নিজ উদ্যোগে নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছে “ফারজানা সেলাই ট্রনিং সেন্টার” নামক একটি প্রশিক্ষণ সেন্টার। ২০১৯ সালের ২৫ আগষ্ট রোববার বিকালে উপজেলার বড়খারচর এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত “ফারজানা সেলাই ট্রেনিং সেন্টার”-এ আনুষ্ঠানিক ভাবে বিনা মূল্যে সেলাই ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদা খানম মুক্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জামাল নাসের খানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জ জেলা সহকারী পরিচালক খন্দকার মশিহুর রহমান ও উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম ক্বারী প্রমূখ। উদ্বোধনের শুরুতে কর্মহীন ৫০ জন নারীকে বিনামূল্যে সেলাই এমব্রয়ডারি, বক বাটিক ও হাতের কাজের ট্রেনিং দেওয়া হয়।

এর পর থেকেই নিজেদের সাবলম্বী করতে ধাপে ধাপে নতুন নতুন নারীরা ফারজানা সেলাই ট্রেনিং সেন্টারে বিনামূল্যে কাজ শিখতে এগিয়ে আসছেন। গার্মেন্টস ও কুঠির শিল্পের কাজ পরিচালনার পাশাপাশি বিনামূল্যে সেলাই ও কুঠির শিল্পের কাজ শিখিয়ে তাদের সাবলম্বী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফারজানা।

 

ফারজানা ফ্যাশন গার্মেন্টস এর কর্মী মোমেনা আক্তার (২৮), সাহানা বেগম (৩০), রোকসানা বেগম (৩৫) ও আসমা আক্তার (২০) সহ বেশ কয়েকজন নারী সাংবাদিকদের বলেন, ফারজানা আপার ট্রেনিং সেন্টার থেকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে উনার গার্মেন্টসেই কাজ করে মাসিক ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা আয় করে সংসার চালাচ্ছি।

 

ফারজানা আক্তার বলেন, তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে “ফারজানা সেলাই ট্রেনিং সেন্টার” নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করে কর্মহীন ও অসহায় নারীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলছেন। এছাড়া “ফারজানা ফ্যাশন গার্মেন্টস” নামে একটি মিনি গার্মেন্টস তৈয়ারি করেছেন। গার্মেন্টসের মালামাল বিক্রয়ের জন্য কুলিয়ারচর শপিং কমপ্লেক্সে একটি শো-রুমও আছে তার।

 

তার লক্ষ্য সেলাই ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষিত নারী কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়ে অনেক বড় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী তৈয়ারি করে কর্মহীনদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশের জন্য কিছু একটি করার।

 

বেকারত্ব দূরিকরণে গরীব অসহায় কর্মহীন নারীদের সহযোগিতা করার অঙ্গীকার নিয়ে ফারজানা আক্তার আরো বলেন, আমরা নারী, নারীরাও পারে, আমরা পিছিয়ে থাকতে চাইনা। পুরুষের পাশাপাশি আমরাও আয় করে সংসারের হাল ধরতে চাই। প্রতিটা নারী আমার মত আত্মনির্ভরশীল হোক সেই লক্ষ্যেই আমার এ বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষন দেওয়া। এ ক্ষেত্রে সরকারের কোন সহযোগিতা পেলে এলাকার বেকারত্ব দূরিকরণে এবং অদক্ষদের প্রশিক্ষিত করে দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তরিত করতে আরো অনেক বড় অবদান রাখতে পারতাম।

 

এছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যার দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, এ কাজে উন্নতি করতে হলে অর্থের প্রয়োজন যা তার কাছে নেই। সরকারি ভাবে ব্যাংক থেকে স্বল্পসুধে ঋণ পাওয়া গেলে শত শত কর্মহীন মানুষের কর্মের ব্যবস্থা করে দিতে পারতেন তিনি। লক্ষ্যে পৌছতে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.