২৪ ঘন্টাই খবর

মুন্সীগঞ্জে গ্রামের রাস্তা নির্মানে বাধা দিচ্ছে সাবেক ইউপি সদস্য 

সাখাওয়াত হোসেন মানিক: রাজনীতির সহীংসতায় রাস্তা নির্মানে বাধা।  চলাচলের সুবিধার জন্য  সম্মুক্ষিন হয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ি উপজেলার যশলং ইউনিয়ন এর ছোট কেওয়ার গ্রমের ৫ নং ওয়ার্ড এলাকাবাসি । ঋষি বাড়ি থেকে শুরু করে প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত এই রাস্তাটি নির্মান কাজ শুরু করা হয় ২০১৯ সালে। নানা জটিলতার কারনে কাজ বন্ধ থাকে দীর্ঘদিন। পূনরায় রাস্তার কাজ শুরু হয় চলতি বছরে। জানা গেছে টংগিবাড়ি উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এই রাস্তাটির নির্মান কাজ শুরু হয়েছে । যার দৈর্ঘ্য প্রায় ২৬০০ ফুট। ঋষি বাড়ি থেকে শুরু করে প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত রাস্তা নির্মানে ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ ইসমাইল হোসেন এলাকাবাসির সুবিদার্থে বিশ একর জমি দান করেন। আরো জানা গেছে স্থানীয় আলাউদ্দিনে ছেলে বাবুল শেখ তার পৈত্রিক সম্পত্তি রাস্তা নির্মানে ৬০০ ফিট জায়গা এলাকাবাসির উন্নয়নে দান করেন। ৫ নং ওয়ার্ডের ছোট কেওয়ারের এই রাস্তাটির জন্য দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা এবং ভোগান্তির স্বীকার ছিলেন এলাকাবাসি। রাস্তাটি নির্মান হলে ঋষি বাড়ির ছোট কেওয়ার প্রাইমারি স্কুলে যাওয়া আসা সহ প্রাই দেড় হাজার থেকে দুই হাজার লোকের অনেক জায়গা ঘুরে ফিরে তাদের গ্রামে আসা যাওয়া করতে হবে না । স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ ইসমাইল হোসেনের সার্বিক প্রচেষ্টায় এবং এলাকাবাসির চলাচলের সুবিদার্থে টংগিবাড়ি উপজেলা পরিষদ থেকে ২৬০০ ফুট রাস্তা নির্মান করার জন্য বরাদ্দ পায়। কাঁচা মাটির এই সড়কটির নির্মান কাজ ৯০ শতাংশ প্রায় শেষ হয়েছে । পুরো রাস্তাটি সংযোগ স্থাপনের জন্য মাঝখানে একটি সরকারি খাল থাকায় ছোট একটি কালভার্ট / সাকোর প্রয়োজন রয়েছে। সাকো/ কালভার্টের জন্য রাস্তাটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। রাস্তা নির্মানে বাধা প্রদান এবং সাকো / কালভার্ট যেন ঐ খালের উপর না করা হয়, সেজন্য স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কালনি বেগম বিভিন্ন ভাবে বাধা প্রদান করে আসছে বলে জানান এলাকাবাসি। তাছাড়া ছোট কেওয়ার এই গ্রামটিতে একটি মাদ্রাসা ও একটি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। শিশু সহ নানা শ্রেণীপেশার লোকজন এই রাস্তটির জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। জানা গেছে কালনি বেগম ইউপি সদস্য থাকাকালিন এলাকার কোন কাজ করেনি। তাছাড়া স্থানীয় মানুষদের বিভিন্ন দিক থেকে হয়রানি করে আসছে। তার সাথে কেউ কিছু বলতে গেলে মামলা হামলার ভয় দেখিয়ে থাকেন। আরো জানা গেছে এলাকার অনেককে সে বিভিন্ন মামলা দিয়ে মিথ্যে জেল জরিমানাও করিয়েছে । রাজনীতির অপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় শুরু করেছেন উৎপাত। দিচ্ছেন এলাকার রাস্তাঘাট নির্মানে ও সরকারি কাজে বাধা। তাছাড়া তার সাথে কোন বিষয়ে মীমাংশা করাও যায় না। মামলার ভয়ে তাকে কেউ কোন কিছু বলতে পারে না। ২৬০০ ফুট রাস্তাটিতে পুকুরে মাত্র        ৭০ ফুট। সে জায়গাটি কালনি বেগম নিজের বলে দাবি করছেন।  অথচ সে কোন কাগজ পত্র ও দলিল দেখাতে পারেননি। অথচ বন্ধ করে দিয়েছেন রাস্তা নির্মান কাজ । সরেজমিন ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। দেখা গেছে যে খালটি নিয়ে এত ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে সে খালটি মুলত সরকারি সম্পত্তি বলে জানান এলাকাবাসি । সরকারি সম্পত্তি কিভাবে নিজের সম্পত্তি এমন প্রশ্নের জবাবে কালনি বেগম বলেন, আমার জায়গা এখানেই আছে। সরকারি খাল অন্যদিকে। আমার জায়গার মধ্যে রাস্তা নির্মান হইতে দিমু না। গ্রামটিতে ২০০০/২৬০০ লোকের একমাত্র প্রধান সড়ক এই রাস্তাটি। অথচ কালনি বেগম ছাড়া আর কারোর এই রাস্তাটি নির্মানে কোন আপত্তি নেই। অনেকে শ্রম দিয়ে, অর্থ দিয়ে, জায়গা দিয়ে এই রাস্তাটি সম্পুর্ণ করার জন্য গ্রাম বাসি চেষ্টা করছেন। কিন্তু কালনি বেগমের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারনে আটকে আছে রাস্তা নির্মান কাজ। এ ব্যাপারে টংগিবাড়ি উপজেলার যশলং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমেস চোকদার স্থানিয় পত্রিকা ও প্রেসক্লাব কে বলেন, আসলে রাস্তাটি ইসমাইল মেম্বার করতেছে আমাদের সার্ভিক সহযোগিতায় । আমি সাবেক ইউপি সদস্য কালনির বিষয়ে জানি। দুপক্ষকে আমরা ডেকে এনে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। টংগিবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে একটি স্মরন লিপি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখবো। যদি সেখানে সরকারি সম্পত্তি থেকে থাকে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Leave A Reply

Your email address will not be published.