২৪ ঘন্টাই খবর

ভারতের ছেড়ে দেয়া পানিতে লালমনিরহাটে বন্যা : তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সে.মি. ওপরে

লালমনিরহাট :
ভারতের ছেড়ে দেয়া পানি প্রবাহে তিস্তা নদীর বাম-ডান তীরবর্তী এলাকায় দু’কুল উপচিয়ে হঠাৎ বন্যার পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আজ শুক্রবার ৯ জুলাই তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার)। যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টের বন্যা পূর্বাভাষ কেন্দ্র থেকে জানা জায়, গত এক সপ্তাহ  থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে ৫২ দশমিক ৩৫-৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়। ৯ জুলাই  জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে হঠাৎ পানি প্রবাহ বেড়ে যায়।  রাত ৯টায় তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮০ সে.মি.। যা বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপরে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সব জল কপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ফলে ব্যারাজের ভাটিতে নদী তীরবর্তি  কিছু কিছু গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে চলতি মৌসুমে এটি সর্বোচ্চ পানি প্রবাহ বলে তারা জানান।
জানা গেছে, ভারতের সিকিম উপত্যকা থেকে সৃষ্টি হওয়া তিস্তা নদী ভারতে প্রবাহিত হয়ে নিলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। উজানে ভারতের অংশে ভারত সরকার বাঁধ নির্মাণ করে তিস্তা নদীর পানি এক তরফাভাবে ব্যবহার করছে।  ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে কোনো পানি থাকে না। মরুভুমিতে পরিণত হয় তিস্তা। আবার বর্ষাকালে অতিবর্ষণের ফলে ভারতের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ অংশে ভয়াবহ বন্যা আর তীব্র ভাঙনের মুখে পড়ে লালমনিরহাটের ৫টি লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী,  কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, নদীপাড়ের মানুষের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.