২৪ ঘন্টাই খবর

সিরাজগঞ্জে উল্লাপাড়ায় চেয়ারম্যানের অনুমতিতে-বঙ্গবন্ধু ক্লাব বিক্রির অভিযোগ ; আ’লীগ ও মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বাঙ্গলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সোহেল রানার অনুমতিতে বঙ্গবন্ধু ক্লাব নামে একটি ক্লাব ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বাঙ্গলা ইউনিয়ন পরিষদের প্রতাব বাজারে, বঙ্গবন্ধু ক্লাব বিক্রিতে স্থানীয় আ’লীগ ও মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধু ক্লাব বিক্রিতে মুক্তিযোদ্ধারা বাধা দিলেও তা মানেননি বাঙ্গলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক মষ্টার, সাধারণ আব্দুর রাজ্জাক ,সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল করিমসহ স্থানীয় কতিপয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন। তবে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা বলছেন বিক্রি করে অন্যত্র বঙ্গবন্ধু ক্লাব ঘর নির্মান করা হচ্ছে, সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ১৯৯৬ সালে সাবেক এমপি মরহুম আব্দুল লতিফ মির্জার হাতে প্রতাব বাজারে বঙ্গবঙ্গু ক্লাব নামে একটি ক্লাব গঠিত হয়। সে স্থানেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হত, তবে হঠাৎ করেই এই অফিসটিতে করা হয়েছে মুদি দোকান।
বাজারের ব্যবসায়ী রিয়াজ উদ্দিন অফিসটি কিনে এ মুদির দোকান দিয়েছেন বলে বাজারের অন্য ব্যাবসায়ীরা জানান, স্থানীয়রা জানান,উল্লাপাড়া উপজেলার প্রতাব বাজারে কিছু দিন আগেও বঙ্গবন্ধু ক্লাব আওয়ামীলীগের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হত, কিন্তু হঠাৎ করেই অফিসটি মুদির দোকান দেখে আমার বিষ্মিত হয়েছি।
অভিযুক্ত বাঙ্গলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাস্টার জানান, আগের বঙ্গবন্ধু ক্লাব ঘরটি ছোট ছিল এবং ঘরটি ভাঙ্গে গিয়েছিল, আমরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান সোহেল রানার সাথে কথা বলে বাজারেই একটি ঘর নির্মান শুরু করা হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান ২ টন টির-আর বরাদ্ধ দিলেও নির্মান কাজ শেষ হয়নি। তখন অর্থ সংকট দেখা দিলে চেয়ারম্যান সোহেল রানার অনুমিতে স্থানীয় নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে বঙ্গবন্ধু ক্লাব টিনের ঘরটি ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়।
বাঙ্গালা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী এনসাব আলী ও গাজী সাবেক সেনা সদস্য আলী আকবর কান্না জরিত কন্ঠে জানান, আমরা বঙ্গবন্ধু ক্লাব বিক্রির কথা শুনে বাজারে গিয়ে দেখি বঙ্গবন্ধু পরিষদের ঘরটি মুদি দোনান ঘর নির্মান করা হচ্ছে। পরে আমার বাধা দেই কিন্তু বাধা না মেনে আমার বঙ্গবন্ধুকে আমাদের সামনে গলটিপে হত্য করছে। আমাদের সেই বয়স নেই, প্রতিরোধ করার শক্তিও নাই যারা এই ক্লাব বিক্রি করেছে তারা প্রকৃত আওয়ামীলীগ করতে পারে না। প্রকৃত আওয়ামীলীগ করলে বঙ্গবন্ধুর নামে ক্লাব বিক্রি করতে পারতো না। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা চাই সে স্থানে বঙ্গবন্ধু ক্লাব রয়েছে যত দিন বাচবো সে স্থানেই দেখে যেতে চাই, ২ নং বাঙ্গালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান সোহেল রানা জানান,বঙ্গবন্ধু ক্লাবটি বিক্রি করছে কি করে নাই আমার জানা নেই। বঙ্গবন্ধু ক্লাব আছে আমার জানানেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি আনা হয়েছে আমাকে মুলত আমাকে ফাসানোর জন্য। তবে বঙ্গবন্ধুর নামে ক্লাবটি বিলুপ্ত ও ঘর বিক্রি করাকে ধিক্কার জানিয়েছেন। এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফয়সাল কাদির রুমি বলেন,বিষয়টি আমার জানানেই, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে খুবই হতাশ হয়েছি। অবশ্যই বঙ্গবন্ধু ক্লাবের ঘর বিক্রির ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.