২৪ ঘন্টাই খবর

শ্রীপুরে সোনালী ব্যাংকের পাঁচজন কর্মকর্তা গ্ৰেপ্তার

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারের ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৯৬০ টাকা উত্তোলন করার প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে আজ রোববার (৪ জুলাই) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক শ্রীপুর থানা হেডকোয়ার্টার শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল হক বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১ জুন) উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, দুই কর্মচারী ও পাঁচ সুবিধাভোগীসহ মোট ৯ জনকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলো,

শ্রীপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. বজলুর রহমান, মাস্টার রোল কর্মচারী তানভীর, অডিটর আরিফুল ইসলাম, সুবিধাভোগী রনজিত কুমার, সুবল চন্দ্র মোহন্ত, কমল চন্দ্র রায়, ফুলমনী রাণী, সিবেন্দ্র চন্দ্র রায় ও শাহানা আক্তার। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, নিখিল বর্মন, রনজিত কুমার, সুবল চন্দ্র মোহন্ত, কমল চন্দ্র রায় ও ফুলমনী রানী।মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়,

 শ্রীপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার বজলুর রহমান ও তার দুই কর্মচারী সুকৌশলে সুবিধাভোগীদের অনুকূলে বিভিন্ন অংকের মোট ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯ হাজার ৯৬০ টাকার অ্যাডভাইস ও বিল প্রস্তুত করেন। ১৭ জুন অ্যাডভাইস ও বিল সোনালী ব্যাংক শ্রীপুর থানা হেডকোয়ার্টার শাখায় পাঠানো হয়। এসবের সাথে বিলের হার্ড ও সফট কপি যুক্ত করা হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে শ্রীপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার সাথে ফোনে কথা বলে নিশ্চিতের পর তাদের হিসাবে পরিশোধ করা হয়।

 পরে অধিকতর নিশ্চিতের জন্য ১৮ জুন শ্রীপুরের সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক নাগেশ্বরী সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে সুবিধাভোগী ব্যাংক হিসাবধারীদের পরিচয় কৃষক ও গৃহিণী হিসেবে নিশ্চিত হন। পরে সুবিধাভোগীদের হিসাব “স্টপ পেমেন্ট” করার জন্য অবহিত করেন।এদিকে, অ্যাডভাইস ও বিলের সত্যতা যাচাই করতে ২৯ জুন ব্যাংক ব্যাবস্থাপকসহ একাধিক কর্মকর্তা শ্রীপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ও বিল তৈরীর সাথে যুক্ত কর্মচারীদের সাথে সশরীরে কথা বলে অসঙ্গতি চিহ্নিত করেন। একইদিন উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা বিলটি স্থগিত রাখতে ব্যাংক ব্যবস্থাপককে চিঠি দেন।

 এদিকে, সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে তাদের সকল ব্যাংক চেক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড উত্তরখান শাখার গ্রাহক শাহেনা আক্তার তার নিজ হিসাবে (নং ০১৩২১০১০০৮৭৪৮) দাখিল করেন। সরকারি অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অভিযুক্তদের প্রতারকচক্র ও অবৈধ সুবিধাভোগী হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

 শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, সুবিধাভোগী রনজিত কুমার, সুবল চন্দ্র মোহন্ত, কমল চন্দ্র রায়, ফুলমনী রাণী এবং নিখিল বর্মনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.