২৪ ঘন্টাই খবর

মুসা নবী কর্তৃক আজরাইল (আঃ) থাপ্পর !

হয়তো সকলেই জানেন যে হযরত মুসা কলিমুল্লাহ (আঃ) ছিলেন একজন তীব্র ঊষ্ম মেজাজের পয়গম্বর, যাহার কথার আগে হাত বেশি চলিতো। যখন মুসা (আঃ)-এর মৃত্যুকাল সন্নিকটে আসিলো তখন হযরত আজরাইল আঃ মানুষের রুপে যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে বিনা সালামে তাহার ঘরে প্রবেশ করে বলেছিলেন হে মুসা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও!

এমনিতেই বিনা সালামে ঘরে প্রবেশ তার উপর পয়গম্বরের নাম সমন্ধন, এবং মনুষ্যকৃতি আজরাইল আঃ-কে দর্শন, এতে হযরত মুসা আঃ স্বভাবতই ক্ষেপিয়া রক্তিমবর্ণ হইয়া যান এবং বেয়াদবির শাস্তিস্বরুপ কালক্ষেপণ না করিয়া স্বহস্তে এবং সজোরে হযরত আজরাইল আঃ-কে চপেটাঘাত করিয়া বসেন।
ফলস্বরুপ আজরাইল আঃ একটি চক্ষুর দৃষ্টি হারাইয়া জানকবজ ভুলিয়া চলিয়া যান সৃষ্টিকর্তার দরবারে এবং আরজ করেন ইয়া রব্বুল আলামিন,
আপনার ঐ রাগী বান্দা আমাকে চপেটাঘাত করিয়া এহেন অবস্থা করিয়াছে!
রব্বুল আলামিন অন্তর্যামী!
তিনি তাবৎ সংবাদ সমন্ধে পুর্বজ্ঞাত,
সুতরাং তিনি কাহারো অভিযোগের অপেক্ষায় বসিয়া রহেন না।
রব্বুল আলামিন আজরাইল আঃ-কে উপদেশ এবং নির্দেশ দিয়া কহিলেন তুমি মুসা পয়গম্বরের নিকট পুনরায় গিয়া ভদ্রতার সহিত আমার সালামের সুসংবাদ প্রদান করিয়া বলিবে, মহান রব আপনার সহিত দিদার করিবার প্রয়াস করিয়াছেন! (রবের সহিত দিদারের হেতু মৃত্যুর ঈঙ্গিত)।
মহান রবের এরুপ নির্দেশ পাইয়া হযরত আজরাইল আঃ পুনরায় মুসা আঃ-এর নিকটে যাইয়া আল্লাহ পাকের শেখানো কৌশলে কথোপকথন আরম্ভ করিলেন।
মুসা আঃ- বিস্তারিত শুনিয়া আপত্তি করিলেন তিনি এতো দ্রুত মরিবেন না,
আল্লাহ পাকের পক্ষ হইতে বার্তা আসিলো মুসা পয়গম্বর যদি এমতাবস্থায় মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণের অভিপ্রায় কিংবা সম্মতি প্রদান নাহি করেন তাহা হইলে তিনি যেন একটি গাভীর শরীরের উপরে হস্ত রাখেন!
হস্তের নিচে যতো সংখ্যক পশম থাকিবে তিনি ততো বছর জিন্দেগী বোনাস পাইবেন।
এইরুপ বার্তা পাইয়া মুসা আঃ জিজ্ঞাসা করিলেন,
তাহার পরক্ষণ কি হইবে?
জবাব আসিলো- মউত!
শুনিয়া হযরত মুসা কলিমুল্লাহ (আঃ) আজরাইল আঃ-কে বলিলেন;
শেষমেশ যেহেতু মৃত্যু হইবেই তাহা হইলে কিসের অবকাশ ?
বিসমিল্লাহ বলিয়া আরম্ভ করো!
সহী বুখারীঃ ৩৪০৭
সহীহ হাদিস।
—————-
মোঃ রাব্বি সাহিদি সারোয়ার হোসেন।
ঢাকা, বাংলাদেশ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.