২৪ ঘন্টাই খবর

মুন্সিগঞ্জে শাপলা বিক্রি করে সংসার চলে শতাধিক পরিবারের।

মুন্সিগঞ্জে শাপলা বিক্রি করে সংসার চলে শতাধিক পরিবারে

মুন্স‌িগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় শাপলা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন শতাধিক পরিবার। এ মৌসুমে কৃষি জমিগুলো পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকের জমিতে তেমন কোন কাজ নেই। তবে যে জমিতে কৃষকের ফসল ফলে সেই জমিতেই এখোন হতে শুরু করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত জন্ম নেয় জাতীয় ফুল শাপলা।

 

এই ফুল দেখতে যেমন সুন্দর,তেমনি তরকারী হিসেবে এটি খেতেও খুব সুস্বাদু । কেউ খায় সখ করে,আবার কেউ খায় অভাবে পড়ে। অভাবগ্রস্থ বা নিতান্ত গরীব লোকজন এ বর্ষা মৌসুমে জমি থেকে শাপলা তুলে তা দিয়ে ভাজি বা ভর্তা তৈরী করে আহার করে থাকেন।

 

তবে শহরের লোকজনও খাদ্য হিসাবে অনেকের প্রছন্দে রয়েছে শপলা তরকারী বা ভাজি। আর সেই জীবন্ত শাপলা বিক্রি করে এখন জীবিকা নির্বাহ করছে সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক পরিবার।। তাই এলাকার অনেক কৃষক বর্তমানে এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। এ পেশায় কোন পুজির প্রয়োজন না হওয়ায় বিভিন্ন বয়সের লোক এ পেশায় অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে।এ বর্ষায় সিরাজদিখান উপজেলার ডুবে যাওয়া বিভিন্ন ইরি জমি ,আমন ধান ও পাট ক্ষেতে শাপলা ব্যাপকভাবে জন্মায় । এছাড়াও এলাকার ইছামতি খালের বিলের পানিতেও শাপলা ফুল ফুটেছে সৌন্দর্য আর নয়নাভিরাম দৃশ্য নিয়ে। শাপলা ফুল সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়। তবে মৌসুমের শেষ অর্থাৎ কার্তিক মাসে তেমন বেশী পাওয়া যায়না। এলাকার শাপলা সংগ্রহকারী কৃষকেরা ভোর বেলা থেকে নৌকা নিয়ে ডুবে যাওয়া জমিতে ও বিলের মধ্যে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করতে শুরু করে এবং শেষ করে দুপুরের দিকে।

 

শাপলা সংগ্রহকারী আব্দুল হামিদ জানান, একজন লোক একদিনে ৩৫/৪০ মোঠা শাপলা জমি হতে তুলতে পারে। ১ মোঠায় ৬০টি শাপলা থাকে। পাইকাররা যারা শাপলা তুলে তাদের কাছ হতে শাপলা কিনে নিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়িতে বিক্রি করেন। সে আরো জানায়, সিরাজদিখান উপজেলার রসুনিয়া, ইমামগঞ্জ ও তালতলায় শাপলার পাইকারী বিক্র করা যায়। পাইকাররা এখান থেকে শাপলা কিনে নিয়ে যায়।

 

উপজেলার চরনিমতলী গ্রামের পাইকার মল্লিক বাবু জানান, শাপলা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার মোঠা শাপলা ক্রয় করি । সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে এক মোঠা শাপলা ২০ টাকা দরে ক্রয় করি। তারপর গাড়ি ভাড়া প্রতি মোঠা গড়ে ৩ টাকা, লেবার ১ টাকা, আড়ৎ দাড়ি খরচ ২ টাকাসহ মোট ২৭ থেকে ২৮ টাকা খরচ পড়ে । যাত্রাবাড়ি আড়ৎ এ শাপলা বিক্রি করি ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা করে মোঠা।

 

এলাকাবাসী সুত্রে জানাগেছে, গত কয়েক বছর যাবৎ এ ব্যবসাটি এলাকায় বেশ প্রসার লাভ করেছে। এ থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে এখোন অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করে সংসার চালাচ্ছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.