২৪ ঘন্টাই খবর

বিশৃঙ্খলা রোধ ও খরচ কমাতে রাজস্ব খাতের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি

সরকার দেশের প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দিচ্ছে। প্রাথমিক ভর্তি বাড়াতে এবং ঝরে পড়া রোধে বিগত ১৯৯৯ সাল থেকে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি বিতরণ করা হচ্ছে। এবার থেকে আর প্রকল্পের মাধ্যমে উপবৃত্তি বিতরণ নয়, বরং সরকারের রাজস্ব খাতের মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি দেয়া হবে। মূলত উপবৃত্তি বিষয়ে বিশৃঙ্খলা রোধ ও খরচ কমাতেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। চলতি মাসেই প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) মেয়াদ শেষ হবে। তারপর থেকে তা রাজস্ব খাতে চলে যাবে। আর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর প্রকল্পটি সরাসরি পরিচালনা করবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্প থেকে উপবৃত্তি রাজস্ব খাতে নেয়ার সব প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন সার্ভিস নগদ এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পাঠানো হয়। বর্তমানে এক শিক্ষার্থীর পরিবারকে মাসে ১৫০ টাকা করে উপবৃত্তি  দেয়া হয়। আর একই পরিবারে শিক্ষার্থী ২ জন হলে দেয়া হয় ৩০০ টাকা, ৩ শিক্ষার্থীর পরিবারকে ৪০০ টাকা এবং ৪ শিক্ষার্থীর পরিবারকে মাসে ৫০০ টাকা করে দেয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ও মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে শিক্ষার জন্য খাদ্য কর্মসূচি এবং ১৯৯৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প চালু করা হয়। তারপর সরকার ২০০২ সালে দুটি কর্মসূচিকে একীভূত করে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করে। উপবৃত্তি প্রকল্পের সুফল বিবেচনায় ২০০৮ সালে পুনরায় প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (২য় পর্যায়) গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পে তৃতীয় পর্যায়ে সুবিধাভোগী শিক্ষার্থীর লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৩০ লাখ নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে দুই দফায় প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। বর্ধিত সময়ে উপবৃত্তির সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি ৪০ লাখ নির্ধারণ করা হয়। বিগত ২০০৮ সাল থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত মোট ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৪ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২ হাজার ৪৯ কোটি ৩৯ লাখ ২ হাজার টাকা উপবৃত্তি হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ৪৮ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮ কোটি ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, ২০০৯-১০ অর্থবছরের ৭৮ লাখ শিক্ষার্থীদের হাতে ৫৭ কোটি ৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৭৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীকে ৮২ কোটি ৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী হাতে ৯২ কোটি ২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭৭ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর হাতে ৮৯ কোটি ৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
সূত্র জানায়, বিগত ১৯৯৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প চালু করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০৮ সালে ‘প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’ গ্রহণ করে। দ্বিতীয় পর্যায়ের মেয়াদ ২০১৫ সালের ৩০ জুন শেষ হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় পর্যায়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ পর্যায়ে প্রথমে ১ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হয়। পরবর্তীতে এর সঙ্গে আরো ১০ লাখ শিক্ষার্থী যুক্ত করা হয়। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরো দুই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। আর সর্বশেষ সংশোধনীতে আরো দেড় বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। যা আগামী ৩০ জুন শেষ হচ্ছে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী জানান, ২০২০ সালের জুন মাসে প্রকল্পের তৃতীয় মেয়াদ শেষ হয়েছে। করোনার পরিস্থিতির কারণে বিশেষ ব্যবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে। ওই মেয়াদ চলতি মাসের ৩০ তারিখ শেষ হবে। তারপর প্রকল্পটি সরাসরি রাজস্ব খাতে চলে যাবে। এ প্রকল্পের আওতায় যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিযুক্ত আছেন চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাদের বিদায় নিতে হবে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে কিছু কর্মকর্তাকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হবে। রাজস্ব খাতে প্রকল্পটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে পরিচালিত হবে। তখন এ প্রকল্প পরিচালনার জন্য একজন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে। তিনিই মূলত এ উপবৃত্তির বিষয়গুলো দেখভাল করবেন। এফএনএস২৪

Leave A Reply

Your email address will not be published.