২৪ ঘন্টাই খবর

মুন্সীগঞ্জে ভূল চিকিৎসায় জমজ নবজাতকের মৃত্যু।

মুন্সীগঞ্জে ভূল চিকিৎসায় জমজ নবজাতকের মৃত্য

 

আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ, মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জে ভূল চিকিৎসায় জমজ নবজাতক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৭শে জুন রবিবার রাতে লৌহজং উপজেলার নওপাড়া বাজারে অবস্থিত নওপাড়া ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডি ল্যাব ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

তথ্য সুত্রে জানা যায়, লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নের মালির অংক গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন এর স্ত্রী আয়শা বেগম কে ৬ মাসের গর্ভবস্থায় রবিবার সন্ধ্যায় পেটে সাময়িক ব্যাথা নিয়ে নওপাড়া বাজার ডিজিটাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে ভতির্র পরামর্শ দেয়। স্বজনরা তাদের জানায়, রোগী আয়শা বেগম লৌহজং উপজেলার হাসপাতালের গাইনী ডাক্তার তাহমিনার তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছে। তার অনুমতি ছাড়া তারা কোন চিকিৎসা করাবেন না। এসব কথা শুনার পর নওপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালের কতৃপক্ষ রোগী ও তার সাথে থাকা আত্মীয়স্বজনকে আশ্বাস দেন তারা ডাঃ তাহমিনার সাথে কথা বলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। হাসপাতাল কতৃপক্ষ ডাঃ তাহমিনার সাথে কোন রকম যোগাযোগ না করে নিজেরাই রোগীকে ভূল চিকিৎসা দেন এবং কিছু ওষধ ও স্যালাইন আনতে রোগীর লোকজনের কাছে একটি লিষ্ট ধরিয়ে দিয়ে বলেন ডাঃ তাহমিনা আপা এসব চিকিৎসা দিয়েছেন। ওষধ গুলো আপনারা নিয়ে আসেন। এরপর রোগীর শরীরে একটি স্যালাইন পুশ করা হলে তার ব্যাথা বেরে যায়। রাত সাড়ে ৮টায় দুটি জমজ কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দুই ঘন্টা জীবিত থাকার পর রাত ১০ টায় জমজ দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়। অপুষ্ঠি ও অপরিপক্ক হওয়ায় এবং সময়ের আগে জোড়পূর্বক গর্ভপাত করানোর কারণে জমজ নবজাতকের মৃত্যুর কারণ বলে জানা যায়।

রোগীর স্বামী মো. দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আলট্রা করানো বাবদ ১৫০০ টাকা এবং ওষধ ও স্যালাইন নিজেরা কিনে এনেছি। রোগীকে কোন রকম চিকিৎসা না দিয়ে নমার্ল ডেলিভারির পরও হাসপাতাল কতৃপক্ষ ১৩ হাজার পাচঁশত টাকা বিল করেছে। এই টাকা পরিশোধ না করায় রোগীকে আটকে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ তাহমিনা বলেন, এ বিষয়ে তার সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি।

এই বিষয়ে নওপাড়া ডিজিটাল হাসপাতাল এন্ড ডি ল্যাবের পরিচালক আব্দুল মান্নান জানান, এমন কোন ঘটনা ঘটেনি হাসপাতালে রোগীর সাথে। রোগী এবং তার আত্মীয়স্বজনের মতামতের ভিওিতে সব কিছু হয়েছে। টাকার জন্য রোগী আটকে রাখার কথা বলা হলে সে জানায়, চিকিৎসা করালে তার বিল দিতে হবে এটাই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসাইন জানান, এমন একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। ঘটনা স্থলে অফিসার পাঠিয়েছি। অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.