২৪ ঘন্টাই খবর

নারায়ণগঞ্জে মূর্তি স্থাপন করে দখল টিকিয়ে রাখা অভিনব কৌশল ব্যবস্থা।

মুর্তি স্থাপন করে দখল টিকিয়ে রাখা অভিনব কৌশল ব্যবস্থ

মোঃ নাসির আহমেদ: ১০৭ শতাংশর একটি জমি এর ২৭ শতাংশের দাবি করছে দুইজন। সে জন্য জমির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। একটি দল উক্ত জমি পাকাপোক্ত করার জন্য কৌশল খাটিয়ে সেখানে একটি মুর্তি স্থাপন করেছে। দলটি প্রতিপক্ষকে হেয়প্রতিপন্ন করতে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে সেই মুর্তি ভাঙার হুমকির মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। এতে সেখানে ব্যপক সমলোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই এমন ক‚টনীতির জন্য নিন্দা জানাচ্ছেন। গত ১৮ জুন থেকে জমি দখলের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ এর জামতলার ধোপা পট্টি এলাকার বাসিন্দা উত্তম কুমার দাস এধরনের কান্ড করেছে। এর মধ্যে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়, আইজিপি কার্যালায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়, নারায়ণ গঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয় ও ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন। কোন ভাবে মুর্তি ভাঙার কাজে জড়িত না থাকার পরেও এতে বেশ বিভ্রান্তকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু ও সাবেক সাংসদ নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী। এদিকে জমি কিনে মানহানীকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে নিট কনসার্নের পরিচালক জাহাঙ্গীর মোল্লা। তদন্ত করে জানা গেছে, উক্ত বির্তক সৃষ্টির ২৭ শতাংশ জমিসহ ওখানে ১০৭ শতাংশ জমি রয়েছে। এর থেকে ২৭ শতাংশ জমির পৈতিক সূত্রে মালিক দাবি করছে উত্তম কুমার দাস ও তার ৬ ভাই। কিন্তু সম্পূর্ণ ১০৭ শতাংশ জমি ক্রয় সূত্রে মালিকের দাবিদার নিট কনসার্নের পরিচালক জাহাঙ্গীর মোল্লা। দুপক্ষের ২৭ শতাংশের দাবির জায়গাটি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ২৭ শতাংশ জমির উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আদালতের। অন্যদিকে ঐ ২৭ শতাংশ বাদ দিয়ে ইদানিং ৮০ শতাংশ জমি ভরাট কাজ শুরু করেছেন জাহাঙ্গীর মোল্লা। বিপত্তি বাঁধে এতেই। ৬ ভাইয়ের একজন দীলিপ দাস বলেন, আমাদের জমির অংশ ভরাটের চেষ্টা করেছিল জাহাঙ্গীর মোল্লা। সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে দেখেছেন, জমিতে প্রবেশ পথেই আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে। সেখানেই বেশ কয়েকটি ছোট ঘর রয়েছে। এর একটির মধ্যে মুর্তি স্থাপন করা আছে। জমির অর্ধেকটা ডোবা রয়েছে। সেখানে কোনো ভরাটের চিহ্ন দেখা যায়নি। এতে অভিযোগকারীদের কাছে প্রশ্ন, জমি দখলের অভিযোগ ওঠলো কেন? এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি ৬ ভাই। এদিকে উত্তম কুমার দাস দাবি করেছেন, ১৮ জুন কিছু লোক জমির উপরে থাকা ঘর, দোকান পাট, মন্দির, মন্দিরের মুর্তি ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে ফেলার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু জমির মালিক দাবিদারের আরেক ভাই দিলীপ দাস বলেন,মুর্তি স্থাপন করা ঘরের অংশসহ জমির সামনের ৬ শতাংশ মিশন পাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম নামের একজনের কাছে বিক্রি করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। তার টাকাতেই মামলা পরিচালনা ও সকল কাজ করছি। এদিকে নিট কনসার্নের পরিচালক জাহাঙ্গীর মোল্লা জানান, জমির মালিক ছিল লাল মোহন দাস। তার মৃত্যুর পর ৬ ছেলে মালিক দাবি করছে। গৌরাঙ্গ, কার্তিক, দিলীপ, উত্তম কুমার নাবালক অবস্থায় থাকা কালে তাদের বড় দুই ভাই তৎকালিন এসডিও এর (জেলা প্রশাসক) অনুমতি নিয়ে জমিটি বিক্রি করেন। পরবর্তীতে রফিকের কৌশলগত কুপরামর্শে জমিটি দখল করার জন্য সময় বাড়িয়ে মৃত্যুর ভূয়া সনদ যোগার করে মামলা পেশ করেন আদালতে। আমি ক্রয় সূত্রে পুরো ১০৭ শতাংশর মালিক। তারপরও ২৭ শতাংশ বাদ দিয়ে ৮০শতাংশ বালি ভরাট করছি। যার প্রমাণ সেখানে গেলেই দেখতে পাবেন আপনারা। অথচ কৌশালে দখল পাকাপোক্ত করতে সেখানে মুর্তি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। মানুষের করুণা পেতে তারা ভন্ডামি শুরু করেছে। মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন তারা। এব্যপারে ৬ ভাইয়ের অর্থের যোগানদাতা রফিকুল ইসলামের সাথে বার বার চেষ্টা করেও মোবাইল ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.