২৪ ঘন্টাই খবর

মোবাইল-ইন্টারনেটের যুগেও চিঠি লেখা বন্ধ করেননি সিরাজগঞ্জের সম্রাট

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
গোলাপী কাগজে ভালোবাসার সম্বোধন, সৃজনশীলতা, সাহিত্য, প্রেম ও নানা আবেগে ভরা চিঠি বহু যত্নে নীল-খামে ভরে পাঠানো বা পাওয়ার অস্থির অপেক্ষা’ মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের যুগে যেন রূপকথার গল্প বা হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস। বর্তমান প্রজন্ম এক সময়ের যোগাযোগের এই মাধ্যমটির কথা ভুলতে বসলেও গত ৪০ বছর যাবত নানা দেশের নানাজনের সাথে পত্রমিতালী অব্যাহত রেখেছেন সিরাজগঞ্জের মঞ্জুর কাদের সম্রাট।
চিঠি-প্রেমী এই মানুষটির সংগ্রহে রয়েছে ৪৭ পরবর্তী ভারত, পাকিস্তান ও স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ডাক বিভাগের সকল ডাকটিকিটও, সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার রহমতগঞ্জের পার্টস বিক্রেতা মঞ্জুর কাদের সম্রাট, ষাটোর্ধ এই চিঠি-পাগল মানুষটি গত ৪০ বছর যাবত বিশ্বের বহু-দেশের বহু মানুষের সাথে করছেন পত্রমিতালী। বহু-যত্নে সংগ্রহে রেখেছেন পত্রমিতালীর চিঠিগুলো। শুধু পত্রমিতালীর চিঠিই নয় সম্রাটের সংগ্রহে রয়েছে চাকুরীজীবী পিতার বাল্যকাল ও শিক্ষাজীবনে লেখা চিঠিও। পত্রমিতালীর বন্ধু ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের সূর্যকান্ত মিশ্রের সাথে প্রায় চার-যুগে চিঠিতে মনের ভাব বিনিময়ে গড়ে উঠেছে আত্মিক সম্পর্ক। হাজারো চিঠি সযত্নে সংগ্রহে রেখেছেন নিজের সংগ্রহশালায়, শুধু চিঠিই নয় বাংলাদেশ ন্যাশনাল স্ট্যাম্প ক্লাব নামক সংস্থা গড়ে সংগ্রহে রেখেছেন স্বাধীন ভারত, পাকিস্তান আমল ও স্বাধীন বাংলাদেশের ডাকটিকিটও। ডাকটিকিট সংগ্রহের স্বীকৃতি স্বরুপ পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নানা পুরস্কার। পুরস্কার পাওয়ার পর চিঠি লেখা ও ডাকটিকিট সংগ্রহে এক সময় বিরক্ত হওয়া পিতা তাকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানানোকেই জীবনের সেরা প্রাপ্তি মনে করেন চিঠি পাগল এই মানুষটি, মঞ্জুর কাদের সম্রাট বলেন, বাল্যকাল থেকে চিঠি লিখছি এবং চিঠি পাচ্ছি, দেশী-বিদেশী বহু মানুষের সাথে চিঠির মাধ্যমে মনের ভাব আদান-প্রদান করি। ভারতের বন্ধু সূর্যকান্ত মিশ্র ও আমি প্রায় প্রতিদিনই একে অন্যকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখি, মোবাইল ফোনে কথা বললে তার আবেদন তখনই শেষ। কিন্তু চিঠিতে তা নয়, মঞ্জুর কাদের সম্রাটের স্ত্রী আজিজিয়া খাতুন জানান, প্রায় প্রতিদিনই চিঠি আসে। আবার প্রতিদিনই উনি চিঠি লেখেনও। প্রথম দিকে বিরক্তি লাগলেও এখন ভালো লাগে, চিঠির মাধ্যমেও যে মানুষের সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলা যায় উনি তা প্রমাণ করেছেন।
নিঃসন্তান মঞ্জুর কাদের সম্রাট ও আজিজিয়া খাতুন দম্পতি সন্তানের মতই পরম মমতায় যত্নে রাখেন সংগ্রহে থাকা চিঠিগুলো। মৃত্যুর পর সংগ্রহশালার চিঠি ও ডাকটিকিটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হলেও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি জিপিও’র জাদু ঘরে দিতে চান না মঞ্জুর কাদের।

Leave A Reply

Your email address will not be published.