২৪ ঘন্টাই খবর

উপর মহলের যোগসাজসে রায়গঞ্জে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীর খাবার গিলে খাচ্ছে প্রভাবশালীরা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সরকারের নিয়ম-কানন অমান্য করে সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজসে একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছে সরকারি হাসপাতালের স্টাফরা। এবার রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভক্তিবঞ্চিত রোগীদের খাবার নিয়েও হয়েছে নয়ছয়, গ্রামের অসহায় গরীব মানুষেরা একটু ভালো চিকিৎসার জন্য ছুটে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে ভড়িয়ে নেন নিজেরদের পকেট, হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ৮/৯ দিন ধরে নিম্নমানের একই খাবার প্রতিদিন দেওয়া হচ্ছে। ডাক্তারও তাদের ভালো করে খোজখবর নেন না। হাসপাতালের রোগীদের ভিডিও সাক্ষাৎকার নিতে গেলে কর্মরত চিকিৎসক ডাঃ আশফাক হাসপাতাল স্টাফদের সাথে নিয়ে এই প্রতিবেদকের উপর চরাও হয় এবং রোগীদের বক্তব্য দিতে নিষেধ করেন। পরে প্রতিবেদক ভিন্ন কৌশলে  বিভিন্ন রোগীদের সাথে কথা বলে সাক্ষাৎকার নেন।
সোনাখাড়া ইউনিয়নের মুজাফফরপুর গ্রামের বৃদ্ধা শাহেরবানু বলেন, আমি প্রায় ৭/৮ দিন যাবৎ এই হাসপাতালে ভর্তি আছি, এর মধ্যে একদিন শুধু ব্রয়লার মুগির একটুকু মাংস দিয়েছে। বাকি দিনগুলো ছোট মাছ, সবজি এবং প্রতিদিন সকালে ড্রিম-কলা-রুটি দিচ্ছে। উপজেলার পূর্ব তেলিজানা গ্রামের এক রোগী ক্ষোভের সাথে বলেন, আমার কোমরে সমস্যার কারণে প্রায় ৮দিন হলো এই হাসপাতালে ভর্তি আছি, সকালে একটা ডিম, একটা রুটি, দুপুরে আর রাতে ছোট মাছের সামান্য তরকারি দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতাল থেকে যে খাবার দেওয়া হয় সেটা খাবার যোগ্য না, খুবই নিম্নমানের। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে ২দিন খাসির মাংস ও অন্যান্য দিন রুই-কাতল ও পাঙ্গাস মাছ দিতে হবে কিন্তু স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজসেই এমনটা হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এদিকে রোগীদের নিম্নমানের খাবার দিয়ে বিল উত্তোলন করা হচ্ছে ২দিন মাংস ও অমান্য দিন রুই-কাতল ও পাঙ্গাস মাছের, এব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবারের ঠিকাদার রিপন হোসেন ঘটনার সততা স্বীকার করে বলেন, আমি আগে নিম্নমানের খাবার দিয়েছি কিন্তু এখন রোগীদের সঠিকভাবে খাবার দিচ্ছি। গত ৫বছর ধরে একই নিয়মে খাবার রোগীদের খাওয়াচ্ছেন এমন প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি রিপন হোসেন।
এব্যাপারে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ রহিমা আক্তার শারমিনের জন্য হাসপাতালে সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং মুঠোফোনে একাধিবার চেষ্টা করলেও সে ফোন রিসিভ করেননি, এবিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আমিনুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, আমি রায়গঞ্জে যোগদান করার পর থেকে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। বিভিন্ন সংস্থা থেকে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সম্মানা পদক পেয়েছি। হাসপাতালে রোগীদের খাবার নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে সেটা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ রাম পদ রায়কে একাধিবার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.