২৪ ঘন্টাই খবর

সিআইপি মুছা মিয়া’র মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আ.লীগের সম্পাদক, দুই সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের শোক।

সিআইপি মুছা মিয়া’র মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আ.লীগের সম্পাদক, দুই সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের শোক

মুহাম্মাদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

আজ শনিবার (১৯ জুন) সকাল থেকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের আকাশটাও মনে হয় কাঁদছে। বাতাসেও ভেসে উড়ছে কান্নার শব্দ। আজ সকলকে কাঁদিয়ে চির বিদায় নিয়েছেন সকলের প্রিয় ব্যক্তিত্ব কুলিয়ারচরের প্রাণপুরুষ, কুলিয়ারচরের উন্নয়নের রুপকার, কুলিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রধান উপদেষ্টা ও কুলিয়ারচর গ্রুপের চেয়্যারম্যান আলহাজ্ব মো. মুছা মিয়া (সি আই পি)। আজ শনিবার সকাল ৬ টা ১০ মিনিটের সময় টাকা ইউনাইটেড হালপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি……… রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৬৮ বছর। মৃত্যুর সময় স্ত্রী মিসেস বুলবুল জয়নব আক্তার,পুত্র কুলিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুসা (জিসান) ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাহিয়ান বিন মুসা (জেসি) এবং মেয়ে মেহেনাজ তাবাসুম বিনতে মুসা (নাবিলা)সহ নাতি-নতনী, অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্টিত হবে আগামীকাল রবিবার (২০ জুন) বাদ জোহর কুলিয়ারচর সরকারি ডিগ্রী কলেজ মাঠে।

 

তারঁ মৃত্যুতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিসিবি সভাপতি আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিক, কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইয়াছির মিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম, কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম সুলতানা মাহামুদ, কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল মিল্লাত, পৌরসভার মেয়র সৈয়দ হাসান সারওয়ার মহসিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য লায়ন মশিউর আহমেদ, তুহিন এগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান মো. তুহিনুল হক এমএ, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্বাস উদ্দিন, রামদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আলাল উদ্দিন, উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম ক্বারী, ছয়সুতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর মো. মিছবাহুল ইসলাম, সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মো. মাহবুবুর রহমান, ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ্ আলম ও কুলিয়ারচর উপজেলা প্রেসক্লাবে সাবেক সভাপতি লায়ন মুহাম্মদ কাইসার হামিদ পৃথক পৃথক ভাবে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।

 

সিআই পি মো. মুছা মিয়া

কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার পৈলানপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আলহাজ্ব আবুল কাশেম কাঞ্চন মিয়া। মাতার নাম মরহুমা বেগম নুরুন্নাহার। ৪ ভাই কুলিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল হোসেন লিটন, পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম আবুল হাসান কাজল, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী আবুল মনসুর রুবেল ও ৩ বোন মিসেস নাজমা বেগম, মিসেস ইয়াসমিন বেগম, মিসেস রোজী বেগমের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

 

তিনি একজন সফল মৎস্য ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক ছিলেন। তিনি ৪০ বছর যাবৎ এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্বাধীনতার পর চট্রগ্রামস্থ রিয়াজ উদ্দিন বাজারে তার মৎস্য ব্যবসার (আড়ৎ) প্রতিষ্ঠান ছিল। সামাজিক গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন মো. মুছা মিয়া। তিনি একজন কঠোর পরিশ্রমী একজন সৎ, সহজ সরল, সুন্দর চরিত্রের অত্যন্ত নম্র ভদ্র বিনয়ী ও স্নেহপরায়ণশীল মানুষ ছিলেন।

 

মো. মুছা মিয়া শিক্ষা জীবন শুরু করেন কুলিয়ারচর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাথমিক শাখায়। ১৯৭৫ সালে এস এস সি কুলিয়ারচর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৭৭ সালে চট্রগ্রাম সিটি কলেজ থেকে এইচ এস সি এবং ১৯৭৯ সালে একই কলেজ থেকে বি কম পাশ করেন। ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রলীগ করতেন।

 

মুছা মিয়া শৈশবকালে কুলিয়ারচর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রাবস্থায় সাংস্কৃতিক প্রিয় হিসেবে যুব বিষয়ক ও যুব উল্লাসমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নেতৃত্বের মোহ সৃষ্টি করেছিলেন।

 

তাঁর পিতার চট্রগ্রামে মৎস্য ব্যবসায় যোগদিয়ে স্বল্পদিনের মধ্যে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি ও সুনাম অর্জন করেন তিনি। ১৯৮৪ সালে সর্বপ্রথম সাহসী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কুলিয়ারচরে কোল্ড স্টোরেজ (মৎস্য প্রক্রিয়াজাত করণ শিল্প প্রতিষ্ঠান) স্থাপন করেন এবং সেখান থেকে মৎস্য পণ্য বিশেষ করে চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত করণের মাধ্যমে চিংড়ি সহ মৎস্যজাতপণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করেন। এর ফলে অতি অল্প সময়ে তরুন শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন তিনি। মোট ৩টি মৎস্য প্রক্রিয়াজাত করন ইন্ডাস্ট্রিসহ আরও কয়েকটি বৃহৎ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। এর মধ্যে গাজীপুরে ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশের বৃহত্তম কুলিয়ারচর সোয়েটার ইন্ডাষ্ট্রিজ লি: সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান। মুছা মিয়া তাঁর সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর নিজস্ব শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাইরেও বিভিন্ন ব্যবসায়ীক উদ্যোক্তা ও অংশীদার। তিনি কন্টিনেন্টাল ইন্সুরেন্স কোম্পানি, গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ছিলেন। উল্লেখ্য, তিনি উভয় কোম্পানি উদ্যেক্তা শেয়ার হোল্ডার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক এন সি সি ব্যাংক এর অন্যতম উদ্যেক্তা ও শেয়ার হোল্ডার ছিলেন। তিনি আমেরিকায় লস এঞ্জেলাস, ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও সিঙ্গাপুরে রপ্তানিকৃত মৎস্য প্রক্রিয়াজাত করণ পণ্যের সেলস সেন্টার স্থাপিত করেছেন।

 

দেশের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিল্পপতি মুছা মিয়া একজন সি আই পি ছিলেন। বাংলাদেশ সরকার বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ একাধিকবার সি আই পি হিসেবে ঘোষণা করেন তাঁর নাম।

Leave A Reply

Your email address will not be published.