২৪ ঘন্টাই খবর

সিরাজগঞ্জে পুলিশ লাইনের রেশন সহকারির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত নার্সারি ও জমি জবরদখলের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জ শহরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জহুরা নার্সারী জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক রেশন সহকারির বিরুদ্ধে, জোরপূর্বক প্রবেশ করে ওই নার্সারীর স্থাপনা ধংস ও চারাসহ বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে সিরাজগঞ্জ মোকাম সদর থানা আমলী আদালতে নার্সারী মালিক সালেহ আহমেদ আকন্দ সেতু বাদী হয়ে পুলিশের রেশন সহকারি মাসুদ রানাসহ ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন, মামলা ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া মহল্লার আফজাল খান রোড এলাকায় সালেহ আহমেদ আকন্দ সেতু ২৫ বছর ধরে নিজের জমিতে জহুরা নার্সারী স্থাপন করে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছিলেন। এ বছরও তিনি নিম, বকুল, মেহগণি, তেজপাতা, কাঁঠাল, সুপারিসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন করছিলেন। এ অবস্থায় গত ৪ জুন শুক্রবার নার্সারীর জমি কেনার জন্য প্রহসনের শালিসী বৈঠক আয়োজন করেন জয়পুরহাট পুলিশের রেশন সহকারি মাসুদ রানা। ওই শালিসী বৈঠকে জমির মালিক সালেহ আহমেদ আকন্দ সেতুতে জমি বিক্রির জন্য চাপ দেয়া হয়। এদিকে শালিসী বৈঠক চলা অবস্থাতেই মাসুদ রানার লোকজন ও জমি দখলের চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশী বাঁধায় জমি দখল করতে ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় গত ৫ জুন সকাল ৭টার দিকে মাসুদ রানার নেতৃত্বে ফাহিম শেখ, ভোলা শেখ ও আলাল শেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় ভাড়াটিয়া কিছু লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহুরা নার্সারির ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নার্সারির ১০ বছর বয়সী পুরাতন বকুল গাছ, মেহগনি, কাঠাল, সুপারিসহ শতাধিক গাছ কেটে ফেলে। এছাড়াও এক হাজারের বেশি ফুল, ফল, ও বনজ গাছের চারা ধংস করে ফেলে। এভাবে হামলাকারিরা নার্সারীর জায়গা জবরদখল করে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে। এ সময় বাদী বিষয়টি টের পেয়ে বাঁধা দিতে গেলে তার উপর আক্রমণের চেষ্টা করে। এ সময় চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে রক্ষা করে। এদিকে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে বাদী সালেহ আহমেদ আকন্দকে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন রেশন সহকারি মাসুদ রানাসহ তার সহযোগীরা। ভুক্তভোগী সালেহ আহমেদ সেতু অভিযোগ করে আরও বলেন, গত ৫ জুন শনিবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে গাছ লাগিয়ে জাতীয় বৃক্ষরোপন অভিযান ২০২১ উদ্বোধন করে। ঠিক সেই দিনই মাসুদ রানা তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এসে আমার নার্সারী ধংস করে ফেলেন। তিনি বলেন, পুলিশের রেশন সহকারি হয়ে সেই প্রভাব দেখিয়ে গত প্রায় দেড় বছর ধরে আমার নার্সারী জবর দখলের চেষ্টা করেন মাসুদ রানা। এ বিষয়ে আমি পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে ওই জমির উপর নিষেধাজ্ঞা দেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা স্বত্বেও মাসুদ রানা তার প্রভাব খাটিয়ে নিজের সন্ত্রাসী বাহিনি দিয়ে জবর দখল করেছে। স্থানীয়দের সাথে কতা বলে জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগের সাবেক প্রধান অফিস সহকারি আমলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বরকত আলী ১৯৯৪ সালে অবসর গ্রহনের পর একই গ্রামের আলী মুন্সীর কাছ থেকে গয়লা মৌজাস্থ ১৩৬১নং দাগের .০৬২৫ শতক জমি নিজের স্ত্রী জহুরা খাতুনের নামে ক্রয় করেন। বরকত আলীর ছোট ছেলে সালেহ আহমেদ আকন্দ সেতু ও তার মা জহুরা খাতুন ওই জমির বাউন্ডারির চার পাশে বিভিন্ন ফল ও ফুলের গাছ লাগিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। এরপর সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে চারা উৎপাদনের জন্য নার্সারী স্থাপন করেন। ২০১৪ সালে মা জহুরা খাতুনের অনুমতিক্রমে সালেহ আহমেদ আকন্দ ওই জমির কাগজপত্র কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে জমা দিয়ে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নার্সারী হিসেবে রেজিষ্ট্রেশন করেন। মায়ের নামে নার্সারীর নামকরণ করেন মেসার্স জহুরা নার্সারি’। এ অবস্থায় জয়পুরহাট জেলা পুলিশের সিভিল কর্মচারি হিসেবে কর্মরত রেশন সহকারি মাসুদ রানা পুলিশের ক্ষমতা দেখিয়ে ওই নার্সারীর জায়গা দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করে আসছিল। সুযোগ বুঝে গত ৫ জুন জবরদস্তি নার্সারি ধংস করে এবং সেখানে নিজেদের ঘর নির্মাণ করছে। এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রেশন সহকারি মাসুদ রানা বলেন, আসলে সালেহ আহমেদ আকন্দ সেতুর জমি আমরা দখল করি নাই। তার ভাই-বোনদের জায়গা আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে। সেই জায়গা তারাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও সেতুর নামীয় জমি কেনার জন্য তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.