২৪ ঘন্টাই খবর

বরগুনায় পালাক্রমে হামলার স্বীকার হচ্ছে নৌকার প্রার্থী কিসলু 

মো: মাসুুম বিল্লাহ্, ক্রাইম রিপোর্টার:
বরগুনায় নির্বাচনী সহিংসতা বেড়েই চলছে। গত তিনদিন ধরে বরগুনার ৫ নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। হামলার ধারাবাহিতা চলমান থাকা সত্তেও প্রশাসন বিভাগের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
বরগুনা সদর উপজেলার ৫ নং আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে গুরুতর অবস্থায় দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১২ জুন) বেলা ২টার দিকে ইউনিয়নের নয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে রামরা বাজারের দিকে জনসংযোগ করতে যাচ্ছিলেন নৌকার প্রার্থী মুজিবুল হক কিসলু। এ সময় হঠাৎ গতিরোধ করে নয়া বাজার এলাকায় তাদেরকে ঘেরাও করে দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছেনা, টেটা ও বল্লম নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায় সস্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেন এবং তার দলীয় লোকজন। হামলায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। ১৪টি মোটরসাইকেল ভাংচুর এবং দুটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানায়, নৌকার লোকজন কেউ যেন জীবন নিয়ে পালাতে না পারে তাই হামলা চালানোর আগে নয়াবাজার ব্রিজের স্লিপার উঠিয়ে ফেলে হামলাকারীরা।
এ সময় নৌকার সমর্থক মজনু শরীফ ও হেলাল শরীফের মাথায় এলোপাথাড়ি কোপায় এবং টেটা নিক্ষেপ করে। মজনু ও হেলালকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নৌকার প্রার্থী মুজিবুল হক কিসলু সাংবাদিকদের বলেন, আমি বেলা দুইটার দিকে সাবেক এবং বর্তমান চেয়ারম্যান সহ আমার দলীয় লোকজন নিয়ে জনসংযোগ করতেছিলাম। হঠাৎ গতিরোধ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেন শতাধিক লোক নিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একাধিক ফায়ার করে এবং চল, ল্যাজা, টেটা সহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে। ১৩টা গাড়ি ভাংচুর করেছে, ২টা গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, ৯টা গাড়ি নিয়ে গেছে। দুদিন আগে সোনারবাংলা বাজারে তারা ২টি মোটরসাইকেল ভাংচুর করেছে এবং গতকালকে আমড়া বাজারে কুপিয়ে নুরুন্নবীর হাতের আংগুল কেটে নিয়েছে। আমি আজ সকাল থেকেই পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশের কোনোই সাড়া পাইনি। বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের মদদে এসব করতেছে তার ছোটোভাই মোশাররফ হোসেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা বলতে চাইলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আমরা জানতে পেরেছি নির্বাচনী নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে, আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.