২৪ ঘন্টাই খবর

কুলিয়ারচরে নির্মাণাধীন শতাধিক ফাটলকৃত মডেল মসজিদ উদ্বোধন।

কুলিয়ারচরে নির্মাণাধীন শতাধিক ফাটলকৃত মডেল মসজিদ উদ্বোধন

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী “মুজিবর্ষ” উপলক্ষে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় নির্মাণাধীন ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ জেলায় রয়েছে দুইটি যার একটি হলো কুলিয়ারচর উপজেলায় অপরটি হলো পাকুন্দিয়া উপজেলায় ।

 

পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার (১০জুন) সাড়ে ১০ঘটিকার সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এম.পি গণ ভবণ থেকে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে ৫০ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মধ্যে নির্মাণাধীন কুলিয়ারচর মডেল মসজিটি শুভ উদ্বোধন করার পর দুপুরের দিকে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী আনুষ্ঠানিক ভাবে কুলিয়ারচর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ফলক উন্মোচন করে মসজিদের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

 

এ সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ নূরে আলম, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম সুলতান মাহমুদ, জামিয়া আরাবিয়া নূরুল উলূম কুলিয়ারচর মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি আব্দুল কাইয়ুম খানসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

উল্লেখ্য, এর আগে বুধবার (৯জুন) দুপুরে সরেজমিনে নির্মাণাধীন কুলিয়ারচর মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণের শুরু থেকে উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত মসজিদে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের টাইলস। এসব টাইলস লাগানোর পরই পরই শতাধিক টাইলসের মধ্যে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কিছু স্থানে ব্যবহার করা হয়েছে ভাঙ্গা টাইলস। যা জোড়াতালি দিয়ে লাগানো হয়েছে। এছাড়া মসজিদের নির্মাণ কাজ অনেক জায়গায় ফিনিশিং না করেই ভাঙ্গা জায়গায় রং লাগানো হয়েছে।

 

জানা যায়, ১২ কোটি ৫১ লাখ ৯২ হাজার ৯ শ ১৩ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন কুলিয়ারচর মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্বাবধায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে গণপুর্ত বিভাগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্মাণ কাজ করছে এস.এস.এম.টি এন্ড কে.পি.এল কন্সট্রাকশন (জে.ভি)।

 

স্থানীয়রা বলেন, সরকারের এই মহতি উন্নয়নমূলক কাজে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলা ও দূর্নীতির কারনে সরকারের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে কে.পি.এল কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী আবু সাঈদ বলেন, টাইলস লাগানোর পর এসব টাইলস ফেটে যাচ্ছে। আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কাজ শেষ করার আগে নতুন টাইলস লাগানো হবে।

 

এ ব্যাপারে নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান কে.পি.এল কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি নিয়ে তিনি অবগত আছেন জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এর জন্য আমাকে চাপ পোহাতে হচ্ছে। দেশে মার্বেল টাইলসের ক্রাইসিস থাকায় এগুলো নতুন করে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে যতোটুকু সংস্করণ করা যায় তা আমরা করে দিবো।

 

মডেল মসজিদের ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী সাংবাদিকদের বলেন, মসজিদটি পরিদর্শন করে সমস্যা সম্পর্কে অবগত হই এবং সাথে সাথে গণপূর্ত বিভাগের এসডিও কে অবহিত করি। তারা জানান, ত্রুটিপূর্ণ স্থানগুলো নতুন করে কাজ করে দেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.