২৪ ঘন্টাই খবর

কুলিয়ারচরে একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু।

কুলিয়ারচরে একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্য

 

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্রকরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত মো. নুরু মিয়া (৪৫) অবশেষে মারা গেছে। ঢাকা ধানমন্ডি গ্রীন লাইফ হাসপাতালের আইসিওতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করে অবশেষে গত ১জুন মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে যায়। নূরু মিয়া উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ছমিউল্লাহ পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাসিম ওরুফে নির্ভাসা মিয়া পুত্র বলে জানা যায়।

 

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর বাজার ব্রীজ হতে লক্ষ্মীপুর মাতুয়ারকান্দা পর্যন্ত নির্মাণধীন একটি রাস্তা নিয়ে প্রায় দেড় বছর যাবৎ স্থানীয় লক্ষ্মীপুর মাতুয়ারকান্দা ও লক্ষ্মীপুর কোনাবাড়ী গ্রামবাসীর মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে আসছিলো। একাধীক সংঘর্ষে গত দেড় বছরে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় ৩০/৩৫ জন ব্যক্তি আহত হয়েছে। হামলার ঘটনায় ইতি পূর্বে গত ২০ মে লক্ষ্মীপুর কোনারবাড়ীর পক্ষে মো. আল ইসলাম(৩৬) বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর মাতুয়ারকান্দাবাসীর বিপক্ষে ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত নামা ৪০/৪৫ জনের নামে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এপর গত ২৬ মে বিকাল ৪ ঘটিকায় দু’পক্ষের মধ্যে ফের হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নূরু মিয়া সহ অন্তর (১৮), তানভীর (১৮) ও বোরহান (২০) ছিটা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। এছাড়া সোহরাব (২৬), মনোয়ারা (৩২), রিমন (২৪), আনন্দ (১৬) ও বকুল (৪৫) সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫/২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে স্থানীয়রা গুরুতর আহত নূরু মিয়া (১৮), তানভীর (১৮), বোরহান (২০), সোহরাব (২৬), মনোয়ারা (৩২), রিমন (২৪) ও আনন্দ (১৬) কে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নূরু মিয়া, অন্তর ও তানভীরকে ওইদিন সন্ধ্যায় ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের তিন জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করেন। নূরু মিয়ার অবস্থা আশংকাজনক থাকায় হাসপাতালের আইসিওতে সিট খালী না থাকায় ওইদিন রাতেই তাকে ঢাকা ধানমন্ডি গ্রীন লাইফ হাসপাতালে প্রেরণ করে। গ্রীন লাইফ হাসপাতালের আইসিওতে ৬দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ১জুন দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। গত ২ জুন বাদ মগরিব লক্ষ্মীপুর কৃষি কলেজ মাঠে নামাজে জানাযা শেষে ছমিউল্লাহ পাড়া কবরস্থানে নুরু মিয়ার লাশ দাফন করা হয়।

 

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কুলিয়ারচর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিলো। এঘটনার পর থেকে তিন গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম সুলতান মাহমুদ নূরু মিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে লাশটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.