২৪ ঘন্টাই খবর

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতেও শেষ হবে না ৩৫৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতেও শেষ হবে না ৩৫৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। এমনকি আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের মধ্যেও ওসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সন্দিহান। মূলত চলমান করোনা মহামারি এবং অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতায় এমন সংশয় দেখা দিয়েছে। তার মধ্যে চলতি অর্থবছরের ৫৭টি প্রকল্পের রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা ওই প্রকল্পগুলোয় বিশেষ নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন। তাদের মতে, নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের বাস্তবায়ন না হলে মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধিরও আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে যে উদ্দেশ্যে ওসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল সাধারণ মানুষ তা থেকে বঞ্চিত হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে ৩৫৬টি প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে একটি তালিকা যুক্ত করা হয়েছে। যেগুলো চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতেও শেষ হবে না। অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাবকালে এডিপির সঙ্গে তা উপস্থাপন করা হবে। তার মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ৩২৪টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ২৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের ৫টি প্রকল্প রয়েছে। তাছাড়া চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে আবশ্যিকভাবে সমাপ্ত করার জন্য ৪৪২টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে ৩৮৫টি প্রকল্প। আর যে ৫৭টি প্রকল্প শেষ হবে না তার মধ্যে ১৭টি প্রকল্প ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতেও ছিল। তবে ওসব প্রকল্প ২০২১-২২ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দসহ যুক্ত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩০৫টি প্রকল্প সমাপ্ত করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে মাত্র ১৪১টি প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া সমাপ্তের জন্য নির্ধারিত নয় এমন ৪১টি প্রকল্পও সমাপ্ত করা হয়। তাতে মোট সমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮২টি। কিন্তু সেগুলোর মধ্যেও আবার শতভাগ কাজ শেষ করে সমাপ্ত করা হয় ৯০টি প্রকল্প। বাকি ৯২টি প্রকল্প শতভাগ কাজ না করেই শেষ করা হয়। তাছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য ছিল ৩৪৬টি উন্নয়ন প্রকল্প। কিন্তু সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় ২৪৫টি প্রকল্প। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের লক্ষ্য ছিল ২৯২টি আর শেষ হয়েছে ১৮৮টি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে সমাপ্তের লক্ষ্য ছিল ৩১৫টি কিন্তু শেষ হয়েছে ২৪৩টি প্রকল্প। সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতের ৬৮টি প্রকল্প রয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৩৫টি, কৃষি খাতের ৩৫টি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৫টি, সাধারণ সরকারি সেবা খাতের ৩টি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা খাতের ৯টি এবং শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতের ১১টি প্রকল্প। তাছাড়াও পরিবেশ-জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে ৩০টি, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ৬০টি, স্বাস্থ্য খাতে ৯টি, ধর্ম-সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতে ৯টি, শিক্ষা খাতে ১১টি, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি থাকে ৮টি প্রকল্প এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতের ৮টি প্রকল্প সমাপ্তির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, আগামী অর্থবছরে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হচ্ছে মোংলা বন্দরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প। তাছাড়া মোংলা বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং, অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং, ২০টি ড্রেজারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি সংগ্রহ এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান রানওয়ে ও টেক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শক্তিশালীকরণ, বিজি প্রেসের মুদ্রণ কার্য সম্পাদনার্থে বাই কালার সর্বাধুনিক স্বয়ংক্রিয় পারফেক্টিং মুদ্রণ যন্ত্র, সর্বাধুনিক সিটিপি মেশিন, সর্বাধুনিক স্টিচিং মেশিন, সর্বাধুনিক কাটিং মেশিন স্থাপন প্রকল্প। বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এনকম ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ। জেলা সদরে ও ব্যাটালিয়ন সদরের আনসার ও ভিডিপির ব্যারাকগুলোর ভৌত সুবিধাদি সম্প্রসারণ। কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি রাজশাহী নির্মাণ প্রকল্প। ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার পুননির্মাণ। ১১টি মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন। ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ। ৪টি বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপন। অস্থায়ী ভিত্তিতে রাসায়নিক দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য গুদাম নির্মাণ এবং সার সংরক্ষণ ও বিতরণ সুবিধার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্প।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করেই প্রকল্প সমাপ্তের জন্য সময় নির্ধারণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা তা বাস্তবায়ন করতে পারে না। বর্তমানে করোনা মহামারি নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটিকে অন্যতম প্রধান বাধাও ধরা যায়। তবে কেন প্রকল্প শেষ হয় না তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে। তাছাড়া যাদের গাফিলতির কারণে ওসব প্রকল্প শেষ হয় না তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার। একই সঙ্গে যারা ভালো কাজ করবে তাদের পুরস্কৃতও করা উচিত।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। তারপরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ওসব প্রকল্প বাস্তবায়ন যাতে নিশ্চিত করতে পারে, সেজন্য মনিটরিং জোরদার করা হবে। সমাপ্তযোগ্য তালিকায় যেসব প্রকল্প রয়েছে সেসব প্রকল্পে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এডিপি অনুমোদনের দিন ওসব প্রকল্পে যে গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়। সূত্র: এফএনএস২৪

Leave A Reply

Your email address will not be published.