২৪ ঘন্টাই খবর

নওগাঁয় ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী ; প্রবাসীর পরিবারকে গৃহবন্দী

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নে দাবীকৃত ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক সৌদী প্রবাসীর পরিবারকে গৃহ বন্দী করে রেখেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভুঁতুলিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহেল গত ৩ বছর পূর্বে সৌদী-আরবে চাকুরীতে যান।

এদিকে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রবাসী সোহেলের বাবা শহিদুল ইসলামকে কারনে-অকারনে নির্যাতন শুরু করে। এই প্রভাবশালী চক্রকে সহযোগীতা করছে শহিদুল ইসলামের সহোদর ছোট ভাই জালাল। জানা যায় শহিদুল ইসলাম ও তার ভাইয়ের মধ্যে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ থাকায় তাদের মধ্যে কলহ বাধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছূক স্থানীয়রা জানান, গত ১২ মে/২১ তারিখে মোটরসাইকেল যোগে জালাল, মোহন ও আনার শহিদুলের বাড়ীতে যায় এবং তাকে বলে তার ছেলে বিদেশ ভালো কামাই করছে, একারনে তারা একটি ক্লাব করবে মর্মে শহিদুলের কাছে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। তখন শহিদুল ইসলাম তাদেরকে বলে, তার ছেলের এমনিতে অনেক ঋণ আছে, সেগুলো এখন ধিরে ধিরে পরিশোধ করা হচ্ছে, এই মহুর্তে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দেওয়া তার পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব নয়। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা হুমকি দিয়ে বলে, যেভাবে হোক ৩ লক্ষ টাকা তারা আদায় করেই ছাড়বে। এর দু’দিন পরেই তারা যোগ-সাজোস করে শহিদুল ইসলামের আরেক ছেলে সুমন (১৯) কে ব্যাটারী চুরির অভিযোগ এনে তার বাড়ীতে এসে হুমকি-ধামকি শুরু করে দেয়। দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পেলে পরিণতি আরো খারাপ করবে বলে হুমকি দেয়। এসময় শহিদুল ইসলামের ছোট ছেলে বাঁধন (১৪) ৯৯৯ কল দিতে গেলে মফিজ উদ্দীন দেওয়ানের ছেলে শাহীন উদ্দীন তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেয় এবং বলে, টাকা না দিলে তোদের সকল প্রকার যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাড়ী থেকেও যেন কেহ বের হতে না পারে সেই ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। এরপর তারা সকলে মিলে বাড়ীর দু’দিকে বেড়া দিয়ে বলে বের হলেই পা ভেঙ্গে দেওয়া হবে। এরপর থেকে এভাবেই শহিদুল সহ শহিদুলের পরিবার গত ১৫ দিন থেকে গৃহ বন্দী অবস্থায় আছে। এমনকি ঈদের নামাজ পড়তেও তাদেরকে যেতে দেওয়া হয়নি বলে শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান।

প্রবাসী সোহেল ফেসবুকে সাংবাদিকের সাথে যোগাযোগ করলে সাংবাদিকেরা তার বাড়িতে গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। স্থানীয়রা জানায়, জনাব আলী মাষ্টারের হুকুমে তাদের বেড়া দিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে। জনাব আলী মাষ্টারের কাছে এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা বললে সে জানায় বেড়া দেওয়া বিষয়টি তিনি কিছুই জানেন না। পরে জনাব আলী মাষ্টার বলে, আজই যদি
শহিদুলের ছেলে ব্যাটারি চুরির কথা স্বীকার করে বা জরিমানা দেয় তাহলে এখনিই সে বেড়া তুলে দিতে পারবে বলে ফের জানায়। এভাবে একটি পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখা মানবাধিকার লঙ্ঘন বললে, আলী মাষ্টার বিষয়টি এরিয়ে যায়।

এ বিষয়ে উক্ত ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, বিষয়টি তাকে কেহই জানায় নাই এবং গৃহবন্দীর ঘটনাটি যদি হয়ে থাকে,সেটা খারাপ করেছে বলে জানায়। হাঁসাগাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ জলিল আহম্মেদ এর কাছে জানতে চাইলে সে জানায়, শহিদুলের বাড়ীতে সবদিকে বেড়া দিয়ে বন্ধ করা বিষয়টি বেড়া দেওয়ার পরের দিন সে জানতে পেরেছে এবং অনেকবার বহুভাবে নিষেধ করেছে, এটা বড় রকমের অন্যায় আইন সংগত নয়, কিন্তু তার কথা কেহই শোনে নাই। বর্তমানে শহীদুলের পরিবার গৃহবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.