২৪ ঘন্টাই খবর

কুলিয়ারচরে মামলা করায় রাতের আধারে দুইটি দোকান ও গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আসামিদের বিরুদ্ধে।

কুলিয়ারচরে মামলা করায় রাতের আধারে দুইটি দোকান ও গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আসামিদের বিরুদ্ধ

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলা, বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট, মারধোর ও
শ্লীলতাহানীর অভিযোগে থানায় মামলা করায় মামলার বাদিকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদর্শনসহ বাদির পিতার মুদির দোকান, মুরগী দোকান ও গোয়ালঘরে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত ২৫ মে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও এখন পর্যন্ত মামলা রুজু হয়নি বলে জানা যায়।

উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম ওরুফে নাফুজ মিয়ার পুত্র মো. রুস্তম মিয়া (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, একই বাড়ির মৃত মমতাজ উদ্দিনের পুত্র শামসুজ্জামান চুন্নু (৫৫) গংদের সাথে তাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। উক্ত বিরোধের জের ধরে শামসুজ্জামান চুন্নুর নেতৃত্বে ১২ জন লোক দেশীয় অস্ত্রাদি নিয়ে গত ১৫ মে শনিবার সকালে রুস্তম মিয়ার বড় ভাই মালোশিয়া প্রবাসী মো. শহিদুল্লাহ’র বাড়িতে হামলা করে বাড়িঘর ভাংচুর, লুটপাট, মারধোর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে গত ১৭ মে মো. রুস্তম মিয়া বাদি হয়ে শামসুজ্জামান চুন্নুকে প্রধান আসামী করে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ০৬। মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বাদি রুস্তম মিয়াসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদর্শনসহ বাড়িঘর জালিয়ে পুড়িয়ে চাই করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরপর গত ২৪ মে সোমবার দিবাগত রাতে রাস্তার পাশে থাকা রুস্তম মিয়ার পিতা আব্দুর রহিম ওরুফে নাফুজ মিয়ার মুদির দোকান, মুরগীর দোকান ও গোয়ালঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রোস্তম মিয়া আরো বলেন, আগুন লাগার সাথে সাথে শামসুজ্জামান চুন্নুসহ ৪ জন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে একটি সিএনজিতে উঠে চলে যেতে দেখে এলাকার বেশ কয়েকজন লোক। খবর পেয়ে কুলিয়ারচর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাদের ধারণা মামলার আসামি শামসুজ্জামান চুন্নু লোকজন নিয়ে তার বাবার মুদির দোকান, মুরগীর দোকান ও গোয়ালঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে চলে গেছে। অগ্নিসংযোগ দেওয়ার পরদিন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রতিপক্ষের দুলাল মিয়া (৫৫) বাদি হয়ে গত ১৪ মে সকালের একটি মিথ্যা সাজানো ঘটনা দেখিয়ে কুলিয়ারচর থানায় একটি কাউন্টার মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১১। অপরদিকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মো. রুস্তম মিয়ার পিতা আব্দুর রহিম ওরুফে নাফুজ মিয়া বাদি হয়ে শামসুজ্জামান চুন্নুকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের নামে গত ২৫ মে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বিট অফিসার এস আই মো. এমদাদুল হক বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত অগ্নিকান্ডের ঘটনায় থানায় কোন মামলা রুজু হয়নি এবং পূর্বের মামলার আসামীসহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তের পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানা যায়।
এ বর্বরোচিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এলাকাবাসী।

Leave A Reply

Your email address will not be published.