২৪ ঘন্টাই খবর

ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি ৮৩ বছরের বৃদ্ধা!

মোঃ সালমান হোসেন সাগর, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি :
শরীয়তপুরের জেলার ডামুড্যা উপজেলায় শিধুলকুড়া ইউনয়নের ৮৩ বছরের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে রিংকু ওরফে সামিম বেপারী ও তার বন্ধু হাসান মাদবর এর বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে ডামুড্যা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন, আরমান বেপারীর ছেলে রিংকু ওরফে সামিম বেপারী (২৭) ও শহিদুল্লাহ মাদবরের ছেলে হাসান মাদবর (২৬)। তারা উভয় শিধলকুড়া ইউনিয়নের বড় শিধলকুড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সাড়ে ৩ টার দিকে বৃদ্ধা নারীর ঘর থেকে আত্ম চিৎকার শুনে পাশের ঘরের লোক জন ছুটে আসে। ঘরে ঢুকার চেষ্টা করলে ভিতর থেকে আটকানো কারণে ঢুকতে পারেনি  স্থানীয়রা। এতে সামিম ও হাসান পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। ধরার চেষ্টা করলে তাদের ধরা যায় নি। এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বৃদ্ধা নিজেই।
ধর্ষনের শিকার নারী বলেন, জীবনে বড় পাপ করেছি। না হলে আজ এই দিন টা দেখতে হত না। স্বামী মারা যায় অনেক বছর আগে। ঘরে নারী একাই থাকেন বলে জানান। ৩ মেয়েই থাকেন শশুর বাড়ি। প্রতিদিনের মত রাতে শুয়ে পড়েন তিনি একটু অসুস্থ ছিলেন বলে জানান। রাতে মাঝে মধ্যেই সামিম ঘুমাতে আসতো। কালও পুলিশ আসছে ওকে ধরে নিতে এই কথা বলায় সরল মনে খুলে দেয় দরজা। তারা ঘরে ঢুকে দরজা আটকিয়ে পাশের খাটে গিয়ে আমি ঘুমিয়ে পড়ি, হঠাৎ তারা আমার ওপর আক্রমণ করে। মুখ চেপে রাখায় আমি চিৎকার করলেও বের হয় নি। হঠাৎ মুখ ছুটে যাওয়ায় জোরে চিৎকার করায় পাশের ঘরের রিনা ওর জামাই সহ আরোও অনেকে ছুটে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শী রিনা বেগম বলেন, রাতে প্রায় ৩ টার দিকে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়। তখন আমি শুনতে পাই পাশের ঘরের নানী চিৎকার করছে। আমি মনে করেছিলাম অসুস্থ হয়ে এমন টা করছে। অনেক সময় করার পর তাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে গেলে হঠাৎ বলে ওরে তোরা কে কোথায় আছত আমারে বাঁচা সামিম আর হাসান আমাকে মেরে ফেলতাছে। আমি দরজা ধাক্কা দিলে বন্ধ থাকায় খোলে না। পরে সে বলে ওঠে ওরা পিছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। দৌড়ে পিছন গেলে দেখি দুই জন দৌড়ে যাচ্ছে। কিন্তু অন্ধকার কে সেটা চিনতে পারি নি। ঘরে ঢুকে তাকে অজ্ঞান ও বিবস্ত্র অবস্থায় খাটে পড়ে থাকতে দেখি।
সামিমের দাদা সামসুল ইসলাম (৭৮) বলেন, আমার নাতি নেশা পানি করে কিন্তু কোন মেয়েলী সমস্যা নেই। এলাকার মানুষ আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানা অফিসার্স ইনচার্জ (তদন্ত) প্রবিন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নারী কে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। রিপোর্ট আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.