২৪ ঘন্টাই খবর

নেত্রকোণায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে বঞ্চিত প্রান্তিক গবাদিপশু খামারিরা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোণা বারহাট্টা  উপজেলা  প্রাণিসম্পদ দফতরের (পশু হাসপাতাল) সেবা না পেয়ে হতাশা হয়ে পড়ছেন  প্রান্তিক গবাদিপশু  খামারিরা। দীর্ঘদিন ধরে সেবা না পাওয়ার কারণে হতাশায়  পড়েছেন খামারিরা। শুধু তা-ই নয়, সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতার অভাবে অনেক নতুন খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।  আবার অনেকেরই খামার বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
এতে একদিকে খামারিরা আর্থিকভাবে হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দফতরের অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।জেলা শহরসহ ও বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে সরেজমিনে গেলে প্রাণি সম্পদ দফতরের অসহযোগিতার কথা  জানিয়েছেন প্রান্তিক খামারিরা। অনেকে সরকারি দফতরের নাম শুনলেও বাস্তবে কোনো ভেটেরিনারি সার্জনের সেবা তো দূরের কথা, চোখেও দেখেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভুগীরা। এমন চিত্র রয়েছে বারহাট্টা  সাত ইউনিয়ন জুড়েই।
বারহাট্টা  উপজেলা গুমরিয়া গ্রামের খামারি মোঃ ছাইদুর রহমান খোকন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে গরুর খামারের সঙ্গে যুক্ত আমি। আমার খামারে বর্তমানে ৩০টি গরু ১৬টি গাভী আছে। একটি গাভীর মৃত্যু, ৩একর ৯০ শতাংশ  জাগায় নিয়ে খামার তৈরি করেন।বারহাট্টা প্রায় ৪১ টি খামার আছে।টিকা কুড়া রোগ,তরকা, (গলা ফুলা) টাকার বিনিময়ে ক্রয় করতে হচ্ছে খামারিদের। দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর বারহাট্টা  প্রান্তিক খামারিদের কোন প্রশিক্ষণ সেবা থেকে বঞ্চিত। গত ২০-৫-২০২১ ইং তারিখে সন্ধ্যা প্রায় ৬টা সময় গাভীকে বীজ দেওয়া হয় ,২১-০৫-২০২১ইং তারিখে সময় সকাল বা প্রভাত ৬ টা গাভীর মৃত্যু বাচ্চা পৃথিবীতে আসে।খোকন সাহেব এর দুইটি গাভীর বাচ্চা বিনা চিকিৎসা মৃত্যুবরণ করে।
প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে কোনো পরামর্শ কিংবা সহযোগিতা পাইনি। বন্যাসহ প্রাকৃতি দুর্যোগগুলোতেও তাদের টাকার বিনিময়ে পাইনি আমরা। বাধ্য হয়ে টাকার বিনিময়ে সরকারি পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিই আমরা।
 পশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা সাধারণত গ্রামে আসেন না। গবাদিপশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলে তাদের অফিসে নিয়ে যেতে বলা হয়। অফিসে গরু নিতে গেলে কমপক্ষে ভাড়া বাবদ এক হাজার টাকা খরচ হয়। আমাদের মতো ছোট খামারির পক্ষে এত টাকা ব্যয় করা সম্ভব নয়। কয়েকবার ফোন করার পর যদি কোনো চিকিৎসক আসেন, চিকিৎসা শেষে তাদের আবার  খরচ বাবদ টাকা দিতে হয়।গত বছর সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার একটা বড় গরু মারা গেছে। যা নিয়মিত ২৮ বা ৩০ লিটার দুধ দিত।
প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে কৃত্রিম প্রজননকারী ও একজন করে ভ্যাকসিনেটর ও লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার গ্রামে গ্রামে ঘুরে খামারিদের সেবা দেন না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.