২৪ ঘন্টাই খবর

বাঘের বাজারে চাঁদাবাজিতে অস্থির ব্যবসায়ীরা ; দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চলবে -ইউএনও

মো. জসিম উদ্দিন গাজীপুর:
গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জাকী বলেন, ‘ আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে বাঘের বাজারে চাঁদাবাজি চলছে, তাই আমরা এই সপ্তাহেই বাজারটিতে উচ্ছেদ অভিযান চালাব এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
গত ১৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার ‘সড়ক পরিবহন আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী, গাজীপুরে মহাসড়ক ঘেঁসে উপজেলা পরিষদের হাট ইজারা’ শিরোনামে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে সংবাদ প্রকাশ পেলে গাজীপুর সদর উপজেলার হাট-বাজার ইজারা দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি সংশ্লিষ্ট বাঘের বাজারটি চলতি বাংলা সন ১৪২৮ থেকে আর ইজারা প্রদান করা হবেনা মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট তথ্য মতে, বহু বছর যাবৎই এই বাজারটি (বাঘের বাজার) উপজেলা পরিষদ বেআইনি ভাবে ইজারা দিয়ে আসছেন। আর সেই সুযোগে স্থানীয় অসাধুরা নামমাত্র মূল্যে ইজারা নিয়ে মহাসড়কের জায়গা দখল করে ভিটি বসিয়ে বণিকদের কাছ থেকে জোর জুলুম করে আদায়যোগ্য টোলের মাত্রাতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন। নানা অনিয়ম অভিযোগের সুরাহা না হলেও এই প্রতিবেদকের লেখা সংবাদ প্রকাশ পেলে গাজীপুর সদর উপজেলার বর্তমান জনবান্ধব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জাকী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইতিপূর্বে নিয়ম বহির্ভুত ইজারাকৃত বাঘের বাজারটির ইজারা স্থগিত করেন।
গাজীপুরের সমাজ ব্যক্তিত্বরা ইউএনও আবদুল্লাহ আল জাকী‘র যুগোপযোগী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে প্রত্যয় করেন, ইজারা বাতিল পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে মহাসড়ক ঘেঁষা বাজারটি উচ্ছেদ করে এখানকার বণিকদের একটা সেভ জায়গায় স্থান করে দেয়া উচিৎ যাতে ক্রেতাদের বিপাকে পরতে না হয়।
বাজারটিতে ইজারা স্থগিত হলেও সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ছত্রছায়ায় একটি সিন্ডিকেট স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বাজারের প্রায় পাঁচশ বনিকের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে পঞ্চাশ টাকা করে চাঁদা আদায় করে থাকেন, যার পরিমান মাসে প্রায় আট লক্ষ টাকা। চাঁদা উত্তোলনকারী স্থানীয় বানিয়ার চালা গ্রামের সাহাজউদ্দিনের ছেলে ঐ বাজারের মুরগী ব্যবসায়ী নূরইসলাম জানান, ‘অমি মাত্র টাকা উঠাই, আমার বসরাই সব দেখেন।‘ বসদের নাম ঠিকানা জানতে চাইলে নূরইসলাম তাদের শুধু নাম ইসলাম ও রতন জানালেও ঠিকানা জানান নি।
স্থানীয় পোশাক কর্মী আয়রিন আক্তার জানান, ‘এই বাজরটির কারণে আমরা রাস্তার পাশ দিয়ে হাটতে পারিনা, লাঞ্চ টাইমে খুব তাড়াতাড়ি বাসায় যেতে আসতে হয়, কিন্তু রাস্তার পাশের ফুটপাত দখল থাকায় আমাদের মত শত শত শ্রমিকদের রাস্তার মধ্য দিয়ে হটতে হয়, তখন একসিডেন্টের খুব ভয় করে! এখন যদি এই বাজারটি উচ্ছেদ হয় আমরা ফুটপাত দিয়ে নিরাপদে আসা যাওয়া করতে পারব।’
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মামুন আল রশীদ বাঘের বাজারের চাঁদাবাজি সম্পর্কে জানেন না বল্লেও তা দ্রুত বন্ধ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.