২৪ ঘন্টাই খবর

মায়ের ছোঁয়া পেতে রোজ কাঁদে ছোট্ট মারিয়া

শেখ জাহাঙ্গীর, খুলনা অফিস রিপোর্টার :
কলারোয়ায় একই পরিবারের চার খুনের পর বেঁচে আছে শুধু পাঁচ মাসের মারিয়া। বাবা-মা, ভাইবোন কেউ রক্ষা পায়নি ঘাতকের নিশানা থেকে। তবে ছেড়ে গেছে ছোট্ট মারিয়াকে। খুনের ঘটনার পর মায়ের গলা কাটা লাশের পাশে পড়ে কাঁদছিল মারিয়া। তার সেই কান্না এখনো থামেনি। মায়ের বুকের দুধের জন্য, মায়ের পরম মমতাময় ছোঁয়ার জন্য এখনো কেঁদে চলেছে ছোট্ট মারিয়া।

পাঁচ মাসের শিশু মারিয়া ক্ষুধা পেলে কাঁদছে। যতক্ষণ জেগে থাকছে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছে। মারিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থলটুকু কেড়ে নিয়েছে ঘাতকের দল। হঠাত্ এতো বড় আঘাতে অনেকটাই নিষ্প্রাণ হয়ে গেছে মারিয়ার শিশুমন। চারিদিকে শত মানুষের ভিড়েও নেই প্রিয় মা। তার দু চোখ যেন সারাক্ষণ খুঁজে চলেছে মাকে। মাঝে মাঝে কেঁদে উঠছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মারিয়াকে স্থানীয় ইউপির মহিলা মেম্বারের হেফাজতে রাখা হয়েছে তাকে। হেলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, শিশু মারিয়ার দাদি শাহিদা বেগম একসঙ্গে পরিবারের এতোজনকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। এমন অবস্থায় শিশুটিকে কার কাছে রাখা হবে সে চিন্তা থেকেই জেলা প্রশাসক এমন সিদ্ধান্ত নেন।

মারিয়াকে হেফাজতে নেওয়া হেলাতলা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য নাছিমা খাতুন বলেন, ঘটনা শোনার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে তার রক্তেভেজা শরীর মুছে দেই। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে জেলা প্রশাসক পরিবারের আপন কাউকে না পেয়ে শিশুটিকে আমার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। প্রথম দিন শিশু মারিয়া ভালোই ছিল। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে তার কান্না। সারারাতই একপ্রকার জেগে থাকে। মারিয়া মায়ের দুধ পান করত। গতকাল থেকে তাকে গরুর দুধ ও সুজি খাওয়ানো হচ্ছে। শিশুটি মাঝে মধ্যে কাঁদছে। নির্বাক এ শিশুকে এখন কী করে সান্ত্বনা দেব ভেবে পাচ্ছি না। শিশুটিকে আনন্দ বিনোদনের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছি।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী র্কমকর্তা মৌসুমী জেরিন কান্তা বলেন, মারিয়ার নতুন পোশাক, খেলনা ও শিশুখাদ্যসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, মায়ের গলা কাটা লাশের পাশে কাঁদছিল শিশু মারিয়া। তার আপনজন বলতে কেউ নেই। আত্মীয়স্বজনও শোকে মুহ্যমান। এ অবস্থায় আমি শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছি। আপাতত দেখভাল করার জন্য স্থানীয় নারী ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দিয়েছি। শিশুটির কোনো স্বজন দাবি করলে আইনগতভাবে সমাধান করা হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.