২৪ ঘন্টাই খবর

সখীপুরে গড়ে উঠেছে “মাংস সমিতি”

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ

গরিব ও নিম্নবিত্তদের “মাংস সমিতি”। এটি অনেক জেলায় নতুন মনে হলেও টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় এটি নিম্নবিত্তদের একটি পরিচিত নাম। ঈদুল ফিতরের আগে এই সমিতির মাধ্যমে ৫/৬ কেজি মাংস পেয়ে ভালোভাবেই কাটবে ঈদ এমনটাই প্রত্যাশা সমিতির সদস্যদের।

সমিতির সদস্য উপজেলার কিছু সদস্য বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, নুন আনতে পান্তা ফুরায়। প্রত্যেক ঈদে পোলাপানদের জামা কাপড় দিতেই সব টেকা শেষ হয়ে যায়। মাংস কেনার টাকা পাবো কোথায়? কিন্তু সমিতি কইরা এইবার প্রায় ৫/৬ কেজির মতো গরুর মাংস পাবো। সেই মাংস পোলাপান নিয়ে খামু।

অন্যান্য  গ্রামের আরও অনেকেই জানান মাংস সমিতির মাধ্যমে নিজেরা গরু কিনে এনে ভালো গরুর মাংস পাওয়া যায়। আর এতে খরচও কম হয়। আমাদের সমিতিতে ২৫-৩০ জনের মতো সদস্য রয়েছে।তাছাড়া আমরা মাসিক ৫০০ টাকা হারে হারে চাঁদা তুলি। তাতে বছরে সবমিলিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত টাকা সংগ্রহ হয়। ঐ টাকা দিয়ে আমরা ঈদুল ফিতরের আগে গরু কিনে নিজেরা মাংস ভাগবন্টন করে খাই।

জানা যায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় এরকম ৫’শরও বেশি সমিতি গরিব, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের মাংসের চাহিদা পূরণ করবে। প্রতিটি মাংস সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩০ থেকে ৬০ জন।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া বা মহল্লায় ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এ ধরনের মাংস বা গরু সমিতি গঠন করা হয়। শুরুতে শুধুমাত্র নিম্নবিত্ত মানুষেরা এ ধরনের সমিতি করলেও এখন মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তরাও মাংস সমিতি করছেন। প্রতিবছর বাড়ছে মাংস সমিতির সংখ্যা।

উপজেলার কচুয়া পুকুরপাড় এলাকার মাংস সমিতির মূল উদ্যোগতা ব্যবসায়ী মোঃ মিজানুর রহমান জানান শুরুতে এ সমিতিতে নিম্নবিত্তদের অংশগ্রহণ বেশি থাকলেও এখন ক্রমেই মধ্যবিত্তরা এতে যুক্ত হচ্ছেন। প্রত্যেক বছর সুষ্ঠুভাবে মাংস বন্টন করে নেওয়ায় সদস্যরা আগ্রহ নিয়ে সারাবছর টাকা জমা করে থাকেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.