২৪ ঘন্টাই খবর

খুলনায় স্বাস্থ্যবিধি না. মেনে গায়ে গা লাগিয়ে ঈদের কেনাকাটা

শেখ জাহাঙ্গীর, খুলনা অফিস রিপোর্টার :
মহামারী করোনা মানছে না মার্কেট গুলিতে বেশির ভাগ সময় এ রাত দিনে বাজার মুখো হয় সকল শ্রেনীর মানুষ। তারপর আবার ঈদ নিকটবর্তী। আর কয়েকদিন পরেই মুসলিম উম্মেহার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। একমাস সিয়াম সাধনার পর সকলে পরিবার পরিজন নিয়ে নতুন পোশাকে ঈদের বাড়তি আনন্দ উপভোগ করবে।
যে কারনে সকল পেশা আর শ্রেনীর মানুষের কাছে এখন কেনাকাটা করা অত্যন্ত জরুরী বিষয়। যদিও দেশে বৈশ্বিক মহামারি করোনার দ্বিতীয় প্রকোপ বিদ্যামান। তাই এ প্রকোপ হ্রাসের জন্য সরকার লকডাউন ঘোষনা করেছে। যদিও লকডাউন, তবুও সরকার ব্যবসায়ী আর সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য সময় নির্ধারন করে দিয়েছে। স্বাস্থ্যবি‌ধি ভু‌লে মানুষ ঈ‌দের কেনাকাটায় ব্যস্ত। গতকাল থেকে খুলনায় বাস চলাচ‌ল শুরু হয়েছে। বি‌ভিন্ন এলাকা থে‌কে খুলনার মার্কেটগুলোতে ক্রেতা আস‌ছে ঈ‌দের কেনাকাটা কর‌তে। বাড়‌ছে জনসমাগম, উ‌পে‌ক্ষিত থাকছে সামাজিক দূরত্ব।
নগরীর ডাকবাংলা এলাকার মা‌র্কেটগু‌লো সকাল ১০ থে‌কে খোলা শুরু করে। দোকান খোলার পরপরই বাড়তে থা‌কে ক্রেতাদের ভিড়। সময় যত বাড়‌তে থাকে মা‌র্কেটগু‌লো‌তে ক্রেতা‌দের চাপও বাড়‌তে থা‌কে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে শুরু করে ডাকবাংলো এলাকার যানজট। একদিকে সূর্যের তাপ অন্যদিকে মানুষের বাড়তি চাপে যানজট ছাড়াতে হিম‌শিম খে‌তে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশকে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মা‌র্কেট, এমএমএ রব শ‌পিং ক‌মপ্লেক্স, ডাকবাংলা সুপার মা‌র্কেট, নিক্সন মা‌র্কেট, ক‌বি নজরুল মা‌র্কেট, জব্বার মার্কেট, নান্নু মা‌র্কেট, খুলনা বিপনী বিতান কেন্দ্র, ম‌শিয়ার রহমান মা‌র্কেট, খুলনা শ‌পিং কমপ্লেক্স ও জ‌লিল টাওয়ার মা‌র্কেটে ক্রেতাদের উপ‌চেপড়া ভিড়। মার্কেট ও রাস্তায় যেন তিল ধারনের ঠাই নাই। মুখে অ‌ধিকাং‌শের মাস্ক থাকলেও সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই।
রব শ‌পিং কম‌প্লে‌ক্সের শাড়ী বি‌ক্রেতা শাহীন খান জানান, মা‌র্কেট খোলার পর জনগ‌ণের তেমন একটা সাড়া মে‌লে‌নি। আজ দুইদিন বেচা‌কেনা বেশ ভা‌লো হ‌চ্ছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতা‌দের ভিড় তত বাড়‌ছে। ক্রেতা‌দের সামাল দি‌তে রী‌তিম‌তো হিম‌শিম খেতে হচ্ছে। অপর‌দিকে, নিক্সন মা‌র্কেটের পাঞ্জাবীর দোকানগুলোতে সকাল থে‌কে ক্রেতা‌দের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। সেখা‌নে পা রাখার জায়গা ছিলো না। মা‌র্কেট কর্তৃপক্ষ মা‌ঝেম‌ধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে মাইকিং কর‌লেও কোন দোকানিকে তা মান‌তে দেখা যায়নি। শুধু নিক্সন মা‌র্কেটের নয় আ‌শেপা‌শের সব মা‌র্কেটে চিত্র একই রকম।
আ‌রিফুল ইসলাম ও তার সহধর্মিণী ডুমুরিয়া থে‌কে ঈ‌দের মা‌র্কেট কর‌তে এ‌সে‌ছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মা‌র্কেটে। মার্কেটে ঢুকে তার স্ত্রী অসুস্থ‌ হ‌য়ে প‌ড়েন। তিনি বলেন, গর‌মের কার‌ণে তার স্ত্রীর এ অবস্থা। শু‌নে‌ছিলেন মা‌র্কেটে স্বাস্থ্যবি‌ধি মানার ক্ষে‌ত্রে কর্তৃপক্ষ য‌থেষ্ট গুরুত্ব দি‌চ্ছে, তবে এখা‌নে এ‌সে বাস্তব চিত্র দে‌খে অবাক হ‌য়ে‌ছেন তিনি। কয়েকজন ক্রেতা বলেন, মার্কেটের দোকান তাড়াতাড়ি বন্ধ হওয়ার কারণে কেনাকাটায় ব্যস্ততা বেড়ে যাচ্ছে। মানুষের ভিড়ে চাইলেও স্বাস্থ্যবিধি বা সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে অধিকাংশ বিক্রেতার দাবি যদি দোকান খোলা রাখার সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে ভিড় কমবে, সামাজিক দূরত্ব মানা সম্ভব হবে, কমবে ক্রেতাদের চাপ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.