২৪ ঘন্টাই খবর

ভোলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর নির্মানের অভিযোগ!

মোঃ ফরিদুল ইসলাম, ভোলা :

ভোলা সদর উপজেলাধীন পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজ উদ্দিনের ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে জোর পূর্বক একটি ভূমিদস্যু কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে ঘর উঠানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩/০৭/২০১১ইং তারিখে প্রশিকার নিকট হতে টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে মোঃ সিরাজ উদ্দিন ভোলা জেলার পূর্ব চর ইলিশা মৌজায়, জেএল নং- ৩৪, এর খতিয়ান নং- ৪২৩, ১৪০- ১৪১৫ হইতে দাগ নং ২৫৮৮, ৪৪৮৯, ২৫৪৬, ২৫৬৬, ২৫৬৩, ২৫৭১, ২৫৬৮, ২৫৪২ ও ২৫৪০ থেকে ১২৩.৫ একর সম্পত্তি ক্রয় করে দীর্ঘ ১০ বছর শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। হঠাৎ করে গত ২৯ এপ্রিল ২০২১ থেকে একটি ভূমিদস্যু চক্র মিলে উক্ত জমিতে ঘর উত্তোলনের পায়তারা চালিয়ে আসছে এবং গত ০১/০৫/২০২১ইং তারিখে এক অদৃর্শ শক্তির মধ্যেমে মোঃ মহসিনের নেতৃত্বে ২টি ঘর নির্মাণের করার চেষ্টা চলিয়ে আসছে। তাদেরকে ঘর উঠানোর জন্য প্রাক্তন চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন বাধা প্রদান করিলে মোঃ মহসিন প্রকাশে রাস্তায় বগি দা নিয়ে ও তার দল-বল সহ লাশ ফেলে দেওয়া এবং নারী দিয়ে মিথ্যা মামলা দিবে বলিয়া হুমকি প্রদান করে এবং সাবেক চেয়ারম্যান জমি ক্রয় করার পর উক্ত জমিতে ৭/৮টি কাচা পাকা ঘর নির্মাণ করিয়া এলাকার সাধারন মানুষ বসবাস করে আসছে। এই ভুমি দস্যু মহসিন তাদেরকে বাড়ী ছাড়াসহ প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।

এ ব্যপারে ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাবাসী মোঃ গাজী বেপারী, তছির হাওলাদার, মোঃ আক্তার, সাহেব আলী, মোঃ মন্নান ফরাজীর কাছ থেকে জানা যায়, প্রশিকার কাছ থেকে জমি খরিদ করিয়া দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজ উদ্দিন জমি ভোগ দখলে আছেন। কিন্তু গত কয়েক দিন যাবৎ স্থানীয় প্রভাবশালী মোঃ মহসিন উক্ত জমি হইতে চেয়ারম্যানকে বে দখল করার পায়তারা করিয়া আসিতেছেন। এই প্রশিকার জমির ব্যপারে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, আমি বিগত ১৩/০৭/২০১১ইং তারিখে এই জমি সর্বোচ্চ দরে প্রশিকার নিকট হইতে ক্রয় করি। তিনি আরো জানান, প্রশিকা পি কে এস এফ (ঋন) থেকে ১৫০ কোটি টাকা ঋন গ্রহন করেন, বর্তামনে ১২১ কোটি ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ৩ শত ৩৬ টাকা দেনা ছিলেন। পিকেএসএফ কর্তৃপক্ষ প্রশিকার বিরুদ্ধে ঢাকা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন যার নং সিসি নং- ৫২৪, পিকেএসএফ- ২০১৩ইং। উক্ত মামলার প্ররিপ্রেক্ষিতে আদালত কর্তৃপক্ষ প্রশিকার সকল সম্পত্তির উপর ক্রয়-বিক্রয়, হস্তান্তর, দখল ও ঘর, ভবন নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। যার জন্য আমি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তিটুকু দলিল করিতে পারি নাই। কিন্তু আমি ১০ বছর যাবৎ দখলে আছি এবং জমির সকল কাগজপত্র আমার নিকট রহিয়াছে। বিগত ০৫/১০/২০১৭ইং তারিখ মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট মামলা নং- ৩৩০১/২০১৭ এর শুনানী শেষে হাইকোর্ট বিভাগের মামলা নং- ১৩/২০১৬ (ভায়ো-১৩) পূনঃ শুনানীর জন্য হাইকোর্ট বিভাগে প্রেরন করেন এবং প্রশিকার চেয়ারম্যান জনাব এম.এ. ওয়াদুদ এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ভায়োলেশন মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রশিকার অফিস ও সকল ধরনের স্থাবর সম্পত্তির উপর স্থিতাবস্থা আদেশ প্রাদন করেন। তাই সর্বোচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে কোন পক্ষ বা প্রতিষ্ঠান প্রশিকার আম মোক্তার পরিবর্তন, প্রশিকার স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি, দখল, লীজ বা কোন ধরনের হস্তান্তর জনিত কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা সম্পূর্ণ বেআইনী।

গত ২৬/০৪/২০২১ইং তারিখ ভোলা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরে সিরাজুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একখানা লিখিত অভিযোগ পাঠান। যাহা ২৮/০৪/২০২১ইং তারিখ জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপার গ্রহণ করেছেন। কিন্তু মোঃ মহসিন বাহিনের অদৃশ্য শক্তি নিয়ে ঐ জমিতে ২টি ঘর নির্মাণ কিভাবে করে? এ ব্যপারে ভুক্তভোগী মোঃ সিরাজ উদ্দিন এবং এলাকাবাসীগন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুষ্ঠ তদন্ত সাপক্ষে বিচার চান ও মহসিন এলাকায় আরো বেআইনী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মহসিনকে আইনের আওতায় এনে তার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তর দাবী জানান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.