২৪ ঘন্টাই খবর

মুক্তিযোদ্ধাকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ছাড়াই দাফনের অভিযোগ

বিএম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো :
খুলনার তেরখাদা উপজেলা সদরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার আবদুস সালামকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদর্শন না করেই দাফন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, তার কফিনে জাতীয় পতাকা না মুড়িয়ে, ফুল না দিয়ে এবং বিউগল না বাজিয়ে স্থানীয় প্রশাসন শুধু পুলিশের গার্ড অব অনারের মাধ্যমে সশস্ত্র সালাম জানিয়ে প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা পরবর্তী জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার নির্দেশনা থাকলেও তারা উপস্থিত ছিলেন না। এটা নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তেরখাদা সদর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার নেছার উদ্দিন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, গত ১২ এপ্রিল বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার আবদুস সালাম সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালাম দেওয়া হয়। কিন্তু বিউগল বাজানো হয়নি, কফিনে ফুলও দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানোর সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, গার্ড অব অনার দেওয়া শেষ হওয়ার পর কফিনে জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা দিয়ে প্রশাসনের লোকজন ছবি তোলেন। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, গার্ড অব অনারের সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও ৬ জন কনস্টেবল উপস্থিত ছিলেন। কফিনে কোনো পতাকা ও ফুল নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, আবদুস সালামের কফিন জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছিল না। পরে কফিনে পতাকা ধরে তারা ছবি তোলেন। কফিনে ফুল দেওয়া হয়নি, বিউগলও বাজানো হয়নি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আবুল খায়ের চৌধুরী বলেন, তারা দুপুর ২টার দিকে আবদুস সালামের মৃত্যুর খবরটি জানার পর উপজেলা প্রশাসনকে জানান তিনি। বিকাল ৬টায় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানোর সময় কফিনে জাতীয় পতাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে বিউগল বাজানো হয়নি। বিউগল তেরখাদায় নেই, ফুলও তেরখাদায় পাওয়া যায় না; খুলনা থেকে আনতে হয়। সূর্যাস্তের পর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো যায় না। সে কারণে বিউগল ও ফুল আনতে গেলে সূর্যাস্তের আগে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো যেতো না।
তিনি জানান, গার্ড অব অনারের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকলেও তার পক্ষে একজন কর্মকর্তা ছিলেন। ওসি বা ওসি (তদন্ত) ছিলেন না, একজন এসআই উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানোর এসব আয়োজনের দায়িত্ব প্রশাসনের, কিন্তু তারা ঠিকমতো তা পালন করেনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া ইসলাম বলেন, কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা যে অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়। তিনি একটি সভার কারণে উপজেলার বাইরে ছিলেন। তার পক্ষে সমাজসেবা কর্মকর্তা গার্ড অব অনারের সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ওসি (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তার অফিস থেকে জাতীয় পতাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
তেরখাদা থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে থানা পুলিশের যে দায়িত্ব সেটি তারা যথাযথভাবে পালন করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শন আদেশ-২০২০’ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা তার পরিবর্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিন জাতীয় পতাকায় আবৃত করতে হবে ও সরকারের প্রতিনিধি কফিনে ফুল দেবেন। এরপর সশস্ত্র সালাম জানাতে ও বিউগলে করুণ সুর বাজাতে হবে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তার পরিবর্তে থানার পরবর্তী জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা গার্ড অব অনার পরিচালনা করবেন। কিন্তু তেরখাদার মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযোগ, এসব নির্দেশনার বেশ কয়েকটি মানা হয়নি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.