২৪ ঘন্টাই খবর

নামে মাত্র টিকে আছে ডাব্বার বিল, নেই আগের নয়নাবিরাম সৌন্দর্য । সংবাদ ৫২. ২৪ ঘণ্টা খবর।

নামে মাত্র টিকে আছে ডাব্বার বিল, নেই আগের নয়নাবিরাম সৌন্দর্

 

নরসিংদী প্রতিবেদক : নরসিংদীর ঘোড়াশাল এখন একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। দিন দিন এখানে ফাকা ভুমি বেঁচাবিক্রি হচ্ছে দেদারচ্ছে। আর তাতে যেন নিমিশেই লোক বসতি গড়ে উঠছে। প্রকৃতি বান্ধব আর থাকছেনা পরিবেশ বা চতুর্দিক। হারিয়ে যাচ্ছে লোকজ সৌন্দয্যের সব আঙ্গিনা। মনোরম শোভাষিত জলাধার।

 

ঠিক তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে, নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌরসভার পলাশের অতি পরিচিত একটি প্রকৃতির সুন্দর জলাভুমি ডাব্বারবিল। পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে বাগপাড়ায় ডাব্বার বিলের ইতিহাস অনেকেরই জানা। এই বিলে সারা বছর জুড়ে পানিতে থৈ থৈ করতো, আর এতে ফুটে থাকতো শাপলার বাহার। এই বিলে কেউ নামলে তার হাটু পর্যন্ত কাদায় ধেবে যেত বলেই, এর নাম ছিলো দাব্বারবিল। বর্তমানে সামান্য জায়গাজুড়ে বিলের অস্হিত্ব রয়েছে।

 

আজ থেকে ৫০ বছর আগের নয়নাবিরাম দৃর্শ্যপট এখনো মনে দোলা দেয়। এই বিলে শুধু শাপলা শালুক ছাড়াও পানিফলসহ অসংখ্য জলজ উদ্ববিদ জন্ম নিতো। পৌষ মাঘে পানিফলের সাদা ফুলে ছেঁয়ে যেতো সমস্ত বিল। তালের কোন্দা বা কলার বেলাতে কিশোর-কিশোরীরা বিল বেড়াতে উদ্যমতার এক বিশাল আনন্দ-সুখের সন্দান পেতো ।

 

অন্যদিকে এক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে দেশীয় মাছের আড়ঙ হিসেবে বিখ্যাত ছিলো দাব্বারবিল। যেমন চিংড়ি, পুটি, খলিশা, ভেড়া, টাকি, শোল, শিং, মাগুর, কাইক্কা, রুই, কাতল, বোয়াল সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। সেসময় বিভিন্ন এলাকার মানুষ মাছ ধরার জন্য এই বিলে আসতো।

 

প্রায় প্রতিদিনই স্কুল ছুটির পর এলেকার কিশোররা মাছ ধরতে ছুটে আসতো। তখন মাছ কিনে খাওয়া বিষয়টা একেবারে কল্পনাতীত। এত মাছ পাওয়া যেত যে পার্শ্ববর্তী মানুষদের দিয়েও শেষ হতো না। বিলের মধ্যে খাদ বা ডোবা সেচার পর প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যেত। অনেক সময় চাই, ঠেলা জাল দিয়েও মাছ ধরতে দলবেঁধে বিলে নামতো। বিলটির একটি বৈশিষ্ট্য ছিল যেকোনো বয়সের অথবা উচ্চতার মানুষ নামলে বুক পানি হতো।

 

বিলটির একাংশের পানি কোন সময় শুকাতে না। যত শুষ্ক মৌসুম হোক ঐ অংশে সব সময় পানি থাকতো। আজ ওই বিলের মাছ এবং মাছ ধরার কথা কেবলমাত্র গল্প মনে হয়। বৃষ্টি হলেই দেশীয় পুটি এবং কৈ মাছ যাকে যাকে উপরের দিকে উঠে আসতো। দলবেঁধে মাছগুলো ধরার প্রতিযোগিতা লিপ্ত গ্রামের ছোট বড় সবে। সেই শৈশবের দিনগুলো এখনো জ্বলজ্বল করে হৃদয় স্পটে উঁকি দিয়ে যায়।

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.