২৪ ঘন্টাই খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে নদী পুনঃখননে ফসলের হাতছানি

মাহমুদ আহসান হাবিব :
ঠাকুরগাঁওয়ে শুক ও টাঙ্গন নদী পুন:খনন ও পুন:খননের মাটি দ্বারা বাঁধ নির্মাণ করায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন এলাকার কৃষক।
নদী পুন:খনন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় তিন দশক থেকে রোপা আমন ঘরে তুলতে পারেনি এলাকার কৃষকরা। সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে যেত এসব ফসলের মাঠ। এতে কষ্টে দিন কাটতো কৃষকদের।
কৃষকের সেই কষ্ট লাঘবে পুন:খনন ও পুন:খননের মাটি দ্বারা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই মধ্যে নদী পুন:খনন ও পুন:খননের মাটি দ্বারা বাঁধ নির্মাণের কাজ  প্রায় ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ফসলের স্বপ্ন দেখছে এলাকার কৃষকরা।
ঠাকুরগাঁও সদর সহ রুহিয়া থানার বিস্তির্ণ মাঠ চিরে বয়ে গেছে টাঙ্গন ও শুক নদী। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি অপসারণ এবং খরা মৌসুমে নদীর পানি ব্যবহার করে ফসল চাষের জন্য ১৯৫২ সালে বুড়ির বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণ এবং ১৯৯০ সালে টাঙ্গন নদীতে টাঙ্গন ব্যারেজ নির্মাণসহ ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।
একই সাথে নদীর পানি ফসল উৎপাদনের জন্য বাঁধের উভয় তীরে নির্মাণ করা হয় ৪টি সুইসগেট। কিন্তু নদী ভরাট হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ঠাকুরগাঁও সদরের আসাননগর, দক্ষিন বঠিনা, বড়দেশ্বরী, উত্তর বঠিনা, সন্যাসীপাড়া, খরিবাড়ি, খালপাড়া পানিতে ডুবে থাকে।
নদী দিয়ে পানি অপসারন না হওয়ায় প্রায় দুই মাসেরও অধিক সময় ধরে এসব পানি মাঠে থাকায় রোপা আমন ধান উৎপাদন করতে পারে না এলাকার কৃষক। আর সেই থেকে কৃষকরা দাবি করে আসছিল নদী পুন:খনন ও বাঁধ সংস্কারের। প্রায় তিন দশক পর টাঙ্গন নদীর ৩৫ ও শুক নদীর ২৪ কিলোমিটার পুন:খনন এবং নদীর তীরের পুন:খননের মাটি দ্বারা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয় গত বছরের জুলাই মাসে। আর এজন্য নদী পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে শুক নদী ও ২৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে টাঙ্গন নদীর পুনঃখনন কাজ চলছে। বর্ষার আগেই নদী খনন ও বাঁধ সংস্কার প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আসাননগর গ্রামের কৃষক সাদ্দাম বলেন,‘নদীর পাশেই আমাদের গ্রাম। আর গ্রামের পরই মাঠ। যে মাঠে ফসল উৎপাদন করে আমাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। নদী ভরাট হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই নদীর পাড় উছলে আমাদের বাড়ি ঘর এবং ফসল ডুবে যায়। এবার নদী খনন করায় আমরা উপকৃত হয়েছি।
উপজেলার বড়দেশ্বরী গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিন বলেন,‘নদীর পূর্ব পাড়ে আমাদের গ্রামের অধিকাংশ কৃষকের জমি। আমরা জমিগুলো থেকে কোন দিন রোপা আমন ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। কারণ বর্ষার সময় নদীর পানি আমাদের ফসল ডুবে যায়। প্রায় ৩০ বছর থেকে এ অবস্থা। এ নিয়ে অনেক যোগাযোগ করেও কাজ হয়নি। কিন্তু এবার নদী খনন এবং বাঁধ সংস্কারের কাজ একসাথে করায় ফসল ছাড়াও ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দুর হয়েছে। আশা করছি এবার রোপা আমন ফসল আমাদের ঘরে উঠবে। ফসল নিয়ে আশার এমন কথা জানিয়েছেন ওই এলাকার শত শত কৃষক।
সদর উপজেলার ১৪ নং রাজাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারুল ইসলাম সরকার বলেন, টাঙ্গন নদীর কারণে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমাদের এলাকার মানুষরা। ভারি বৃষ্টিপাত হলেই  নদীর তীরের বাঁধ উছলে পানি প্রবেশ করে মাঠে। বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ফসল তলিয়ে যায়। সেই সাথে ডুবে যায় নদী তীরবর্তী প্রায় ৮ থেকে ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। নদীটি যেভাবে খননের পাশাপাশি বাঁধও সংস্কার করা হয়েছে, তাতে আশা করছি এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের কষ্ট দুর হবে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন বলেন, নদী খননের আগে ফসলহানি ঘটতো প্রতিবছর। খননের ফলে কৃষকরা অনেক লাভবান হবেন।
ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, টাঙ্গন নদী পুন:খনন ও পুন:খননের মাটি দ্বারা বাঁধ নির্মাণের কাজ প্রায় ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ে অবশিষ্ট কাজও শেষ হবে। আর এ কাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি অনেক সমৃদ্ধ হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.