২৪ ঘন্টাই খবর

মুন্সীগঞ্জে দখল আর দূষণে সংকটে খালের অস্তিত্ব। সংবাদ ৫২. ২৪ ঘণ্টা খবর।

নিজস্ব প্রতিবেদক : তোফায়েল হোসেন সিহাব : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নে রতনপুর-দেওয়ানবাজার খালটির প্রবেশমুখ ধলেশ্বরী নদীর মালিপাথর এলাকায়। সেখান থেকে শুরু করে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ফিরিঙ্গিবাজার-আদারিয়াতলার নয়নের খালের সাথে সংযুক্ত হয়ে রতনপুর-দেওয়ানবাজারের সাথে সংযোগ হয়ে সোজা রনছ কাটাকালী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। খালটি খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বহু আগে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দখল, দূষণ আর ময়লা ফেলে যে যার মতো করে খালটিকে দখল করে নিচ্ছে। খালটির দুপাশে দূষণ আর দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট। যেন দেখার কেউ নেই।

 

খালটির প্রবেশমুখের দুই পাশে বালু ভরাট করে খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। পাশাপাশি রতনপুর এবং দেওয়ানবাজার, ছোট কাটাকালী বাজারের বেশিরভাগ জায়গায় গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা।

 

এই খালে এক সময় বড় বড় নৌকা, স্টিমার আর দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাল তোলা নৌকা চললেও এখন আর চোখে পড়ে না। জানা গেছে, এই রতনপুর-দেওয়ানবাজার খালটিতে অনেক আগে এসব নৌযান চলাচল করত। এখন যার যার ইচ্ছfমতো দোকানপাট, ঘরবাড়ি, বিল্ডিং তুলে দখল করে নিয়ছে। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় মীর মো. দেলোয়ার হোসেন, কুদ্দুস, মোতালেব দেওয়ানসহ অনেকে।

 

পাশাপাশি ময়লা ফেলে খালটির পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়াও খালটির দুই পাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলে খালটিকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। খালটিতে ভরা বর্ষায় প্রচণ্ড পানি চলাচল করলেও এখন খালটির প্রবেশমুখে পলি জমার কারণে জোয়ার-ভাটাও হচ্ছে না। তবে পুরো খালটিতে ফেলে দেয়া ময়লা-আবর্জনার নিংড়ানো পানি সরাসরি ধলেশ্বরী নদীতে চলে যাচ্ছে।

 

সরেজমিন রতনপুর-দেওয়ানবাজার খালটির এমন করুণ দৃশ্য চোখে পড়ে। সেই সাথে খালের দুই পাশে গড়ে উঠেছে গরু লালন-পালনের খামার। খামারিরা বিভিন্ন জাতের ঘাস রোপণ করে দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এতে নোংরা পরিবেশে জন্ম নিচ্ছে হাজারো প্রজাতির মশা-মাছি। এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।

 

জানা গেছে, উপজেলা ও ইউনিয়ন ভুমি অফিস থেকে কোনো ধরনের লিজ না নিয়েই চলছে এ অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং বাড়িঘর নির্মাণ। অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ, সেই সাথে খালের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনা হোক এমনটাই দাবি স্থানীয় জনসাধারণ ও সুশীল সমাজের।

 

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন অফিস সূত্র জানায়, নদী-খাল দখল ও দূষণে শাস্তি কঠোর করেছে সরকার। এজন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমশিন আইন ২০২০-এর খসড়া করেছে কমিশন। খসড়া আইনে নদীর দখল ও দূষণের জন্য র্সবোচ্চ শাস্তি ১০ বছররে কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

নদী, খাল দখল-দূষণ রোধে সংস্থাগুলোকে যেমন- বিআইডব্লিউটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসনসহ অন্যদরে যে ক্ষমতা দেয়া আছে, সেটা তারা ব্যবহার করবে। তবে দণ্ডবিধিতে নদীর বা খালে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.