২৪ ঘন্টাই খবর

কুলিয়ারচরে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে এক গ্রামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট। নিহত ১, আহত ৫ । সংবাদ ৫২. ২৪ ঘণ্টা খবর।

কুলিয়ারচরে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে এক গ্রামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট। নিহত ১, আহত ৫

 

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে শিশুদের আম পাড়াকে কেন্দ্র করে এক গ্রামে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় মো. লিটন মিয়া (৪০) নামে এক অটোচালক খুন হয়েছে। আহত হয়েছে নিহতের ছেলে সহ ৫ জন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৭এপ্রিল) সকাল ৬ টার দিকে কুলিয়ারচর উপজেলার মধ্য লালপুর গ্রামে।

 

নিহতের ছেলে মো. রাকিব (২০) জানান, পহেলা রমজানের দিন পার্শ্ববর্তী ভৈরব উপজেলার মিরাচর (উমরাবাড়ী) গ্রামস্থ আমার নানার বাড়ীর মো. শামীম মিয়ার ৭ বছরের ছেলে সাব্বির স্থানীয় ঈদগাহ মাঠের আম গাছ থেকে আম পাড়ার জন্য গাছে ঢিল ছুঁড়লে সেই ঢিল গিয়ে পাশ্ববর্তী বাড়ীর মেরছি মিয়ার নাতি মুরছালিন (৫) এর কপালে লাগে। এতে মেরছি মিয়ার বাড়ির লোকজন ক্ষুদ্ধ হয়ে শামীম মিয়াকে মারধর সহ বাড়ি ঘরে হামলা ও ভাঙচুর করে এবং খুন জখমের হুমকি দেয়। বিষয়টি স্থানীয় মাতব্বরগণ আপোষ মিমাংসার উদ্যোগ নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শনিবার বিকাল ৩টার দিকে এলাকায় একটি শালিশের আয়োজন করে। মিমাংসা হওয়ার আগে প্রতিপক্ষ মেরছি মিয়াদের ভয়ে গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাতে শামীম মিয়া ও তার ভাই বাড়ি ছেড়ে আমাদের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। পরে শালিশের আগেই ভৈরব উপজেলার মিরাচর ওমরা বাড়ীর আব্দুস সাত্তারের ছেলে মেরছি মিয়া (৪৮), রুপা গাজীর ছেলে আতিকুল (৪২) ও আলমগীর (৪৪) সহ অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্রাধী নিয়ে আজ শনিবার ভোর ৬ টার দিকে আমাদের বাড়ীতে অতর্কিত হামলা করে। এ সময় আমার বাবা বিভাটেক চালক লিটন মিয়া তার বিভাটেকটি হামলাকারীদের ভাঙচুর থেকে রক্ষা করতে একটি নিরাপদ স্থানে রেখে বাড়িতে ফিরে আসার পথে সেলিম মিয়ার বাড়ীর আঙ্গিনায় আসার সাথে সাথে হামলাকারীরা তাকে পথরোধ করে মারধর শুরু করে। আমার পিতা প্রাণে বাঁচার জন্য হামলাকারীদের কাছে হাত জোর করে প্রাণ ভিক্ষা চাইলেও হামলাকারীদের নিষ্ঠুরতা থেকে রক্ষা পায়নি আমার বাবা। প্রতিপক্ষের ধাড়ালো দায়ের আঘাতে রক্তক্ষরণ হয়ে মাটিতে ঢলে পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। শামীম মিয়া ও তার ভাইকে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ায় প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাবাকে নির্ধয় ও নিষ্ঠুর ভাবে কুপিয়ে খুন করে। এ সময় হামলাকারীরা ইদ্রিস মিয়া, মঞ্জিল মিয়া, শামীম মিয়া, অহিদ মিয়া, জিলানী ও আকবর আলীর বসত ঘর ভাঙচুর ও লুটপাঠ করে। হামলায়, শামীম (৩৫), রাকিব (২০), সাদেক (৪৫), মিজান (৩২) ও জুয়েল (২৮) সহ ৫ জন আহত হয়।

 

খবর পেয়ে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেণে আনে ও নিহত লিটনের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। খবর পেয়ে ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রেজুওয়ান দীপু, কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ ফেরদৌসী, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা, কুলিয়ারচর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম সুলতান মাহমুদ, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহীন ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন।

 

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম সুলতান মাহমুদ বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এই ঘটনায় কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা প্রস্তুতি চলছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.