২৪ ঘন্টাই খবর

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রাজবাড়ীতে চলছে কঠোর লকডাউন

রাজবাড়ী প্রতিনিধি :

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন গত ১৪ই এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়ন করতে গত ৩ দিনে রাজবাড়ী জেলার সর্বত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ভ্রাম্যমান আদালতের তৎপরতা ছিল ব্যাপক। লকডাউন চলাকালে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানাও দিয়েছেন অনেকেই।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, লকডাউন এর তৃতীয় দিন এ ও রাজবাড়ী শহরে প্রবেশ মুখে বড়পুল এবং বাজারে প্রবেশে ১নং রেলক্রসিং ও এর আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুলিশ বাঁশের ব্যারিকেট দিয়ে সর্ব সাধারণ এর চলাচল বন্ধ করে দেয়।লকডাউনের তৃতীয় দিন জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশের ব্যাপক টহল ও বিভিন্ন স্থানে উপজেলার নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর তৎপরতার ফলে রাস্তা ছিল প্রায় ফাঁকা। এক সপ্তাহের(১৪ই থেকে ২১শে এপ্রিল) লকডাউনের বিষয়ে গত সোমবার চলাচলের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপনে জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে বাইরে যেতে হলে অনলাইনে মুভমেন্ট পাশ নিয়ে তবেই বের হওয়া যাবে। , চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন, চাকরীসহ ১৪টি ক্যাটাগরিতে পাস দেয়া হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের পর শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমতি দেয়া হবে।

নতুন করে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের বিধি-নিষেধের প্রথমদিনে রাজবাড়ী শহরসহ জেলার সর্বত্র কঠোরভাবে লকডাউন পালিত হয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। রাস্তায় পুলিশের টহল গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটর সাইকেলসহ জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহৃত সীমিত সংখ্যক যানবাহন ছাড়া তেমন কোন যানবাহন চোখে পড়েনি। প্রায় প্রতিটি যানবাহনকে থামিয়ে থামিয়ে কী প্রয়োজনে কোথায় যাচ্ছেন তা জানতে চাইছেন পুলিশ সদস্যরা।

শহরের অধিকাংশ রাস্তায় পুলিশের টহল গাড়ী ও সাইরেন বাজিয়ে এ্যাম্বুলেন্স চলাচল করতে দেখা গেছে। রাজবাড়ীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চেক পোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের জেরা করতে দেখা গেছে। তবে যারা ঘরের বাইরে বের হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই জরুরী প্রয়োজনে বের হয়েছেন বলে প্রমাণ দেখিয়ে যেতে পারছেন।

গত সোমবার জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, করোনার বিস্তার রোধে ৭দিনের বিধি নিষেধের মধ্যে জরুরী পণ্য পরিবহন করা যাবে; উৎপাদন ব্যবস্থা চালু থাকবে; জরুরীসেবা দেয়া যাবে। শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু রাখতে পারবে। সকাল ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্তস্থানে কাঁচা বাজার খোলা থাকবে এবং বাজার করা যাবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.