২৪ ঘন্টাই খবর

লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সম্পাদকে শো-কজ!

এস এম আলতাফ হোসাইন সুমন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :
লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর এবার লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্কর ও সম্পাদক ইয়াকুব আলীকে শোকজ করেছে পাঠির হাই কমান্ড। ।
রবিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে শোকজের পত্র প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্কর। এর আগে গত শনিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনের এলাকায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমানের ভাগ্নে সবুজের সাথে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিবাদ লাগে কতিপয় ছাত্রলীগ কর্মীর। এরই জের ধরে ছাত্রলীগের কিছু কর্মী বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমানের ভাগ্নের সবুজের বাড়িতে গিয়ে গালমন্দ ও ঢিল ছুড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এ ঘটনায় পরদিন শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সকালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করকে প্রধানআসামী করে বেশ কিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন সবুজের পরিবার। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করায় ফুঁসে উঠে জেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মী, তারা সভাপতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি করে শুক্রবার রাতে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে । এতে মামলা প্রত্যাহার না হলে সোমবার জেলায় হরতাল পালনের ঘোষণা দেন ছাত্রলীগ। যা শনিবার বিকেলে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
এদিকে শনিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপুল আহমেদ অয়ন ও সাবেক সহ সভাপতি ফরিদ হাসান সবুজের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ছাত্রলীগের একাংশ বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করের গ্রেফতারের দাবিতে একটি মিছিল বের করে শরের বাটা মোড় পৌছালে
অপরদিকে দিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্করের নেতৃত্বে জেলা ছাত্রলীগের অফিস থেকে একটি মিছিল বের হয়ে ঐ বাটা মোড় পৌছিলে দুইটি মিছিলের মুখোমুখি হয়। এরপর শুরু হয় দুই গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। দুই গ্রুপের অস্ত্রের মহড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে পুরো শহর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের হস্তক্ষেপে সমোঝোতার চেষ্টা করা হয় বলেও দলীয় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে শনিবার (১০ এপ্রিল) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষরিত শোকজ পত্র পৌছে।
লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্কর ও সম্পাদক ইয়াকুব আলীকে এ শোকজ পত্র পাঠানো হয়। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আপনাদের বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার উপযুক্ত কারণ ও জবাব আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে ডাকযোগে/ ই-মেইলে পাঠাতে নির্দেশ প্রদান করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্কর শোকজ পত্র প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শোকজের জবাব তৈরি করা হয়েছে। যথা সময়ে কেন্দ্রিয় কমিটির নিকট পৌঁছে দেয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.