২৪ ঘন্টাই খবর

না ফেরার দেশে যাইতে হবে ভেসে, এ দুনিয়ায় থাকার জায়গা নাই” এ গান গাওয়ার দু’দিন পর টুটুলের মৃত্যু

না ফেরার দেশে যাইতে হবে ভেসে, এ দুনিয়ায় থাকার জায়গা নাই” এ গান গাওয়ার দু’দিন পর টুটুলের মৃত্য

 

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

“না ফেরার দেশে যাইতে হবে ভেসে, এ দুনিয়ায় থাকার জায়গা নাই” বুক ভরা কষ্ট নিয়ে বিরহের যন্ত্রনায় এ গান গাওয়ার দু’দিন পর রোববার (১১এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে যায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের প্রয়াত জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. অলি উল্লাহ এঁর পুত্র ভৈরব হলিটাচ্ মেডিকেল কেয়ার এন্ড হসপিটালের পরিচালক মো. আতিক উল্লাহ টুটুল (৩০)। ওই দিন তার মনে হয়তো নাড়া দিয়েছিলো তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। এ দুনিয়ায় আর কোন জায়গা হবেনা তার। তাই এ গান গেয়ে সবাইকে কাঁদিয়ে গেল সে।

 

বেশ কিছুদিন যাবৎ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বিভিন্ন সময় বুক ভরা কষ্টের কথা লিখে পোষ্ট করে আসছিলো সে । মৃত্যু দু’দিন আগে গত শুক্রবার (৯এপ্রিল) আতিক উল্লাহ টুটুল তার বন্ধু মেনু মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় এ গানটি গেয়ে বলে, বড় ভাই নামাজে যাইতেছি। নামাজ থেকে এসে ফোন দিবো। এর দুই দিন পর রোববার (১১এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে তার বসত ঘরের টয়লেটে যাওয়ার পর আর বের হতে দেখা না যাওয়ায় পরিবারের লোকজন টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে গিয়ে দেখে জ্ঞান হারা অবস্থায় পরে আছে।পরে তাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায় সে মারা যায়। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। রোববার বিকাল ৫টার দিকে মরহুমের নামাজে জানাযা শেযে স্থানীয় দরবেশের কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

 

জানা যায়, প্রায় ৬ মাস আগে আতিক উল্লাহ টুটুল পার্শ্ববর্তী ভৈরব হলিটাচ্ মেডিকেল কেয়ার এন্ড হসপিটালে ২ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করে অংশীদার হয়। ইদানিং হাসপাতালের অন্যান্য অংশীদারদের সাথে তার একটি ঝামেলা হলে গত শুক্রবার তার ইনভেস্ট করা দুই লক্ষ টাকার মধ্যে তাকে এক লক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে একটি ডকুমেন্টে তার স্বাক্ষ নিয়ে তাকে হাসপাতালের অংশীদারিত্ব বাতিল করে দেয় অন্যান্য অংশীদারগন। এ ঘটনা তার বুকে বার বার পীড়া দিয়ে আসছিলো।

 

রাজেশ আহমেদ সাকিল নামে তার এক ফুফাতো ভাই বলেন, বিশ্বাস করতে পারছিনা, শরীল টা থর থর করে কাঁপছে, আতিক উল্লাহ গত শুক্রবার আমাকে কল দিয়ে বলেছিলো ভৈরবে হাসপাতালে বিনিয়োগ করেছিলাম। টাকা মাইর খেয়েছি, তার জন্য একটা চাকুরী দেখতাম। আমি তাকে কিছু পরামর্শ দিলাম, সিভি চাইলাম, সিভিটা আর নেওয়া হলোনা। সে আমার খুব আন্তরিক ছিলো, কোন প্রয়োজনে ফোন দিলে ঝাঁপিয়ে পড়তো। তার অকাল মৃত্যু আমি মেনে নিতে পারছিনা। হাসপতালের টাকা মাইর খেয়ে হয়তো সে চিন্তায় চিন্তায় স্টোক করে মারা গেছে।

 

কুলিয়ারচর গ্রীণ লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বেশ কিছুদিন যাবৎ আতিক উল্লাহ টুটুল মনমরা মনমরা অবস্থায় ছিলো। তাকে আমরা অনেক শান্তনা দিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত চিন্তায় চিন্তায় স্টোক করে মারা গেলো সে। তার মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত।

 

ভৈরব হলিটাচ্ মেডিকেল কেয়ার এন্ড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়জুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আতিক উল্লাহ’র সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেন, গত শুক্রবার দুই লক্ষ টাকার মধ্যে তাকে এক লক্ষ টাকা বুঝিয়ে দিয়ে তার সাথে সকল হিসাব নিকাশ ক্লোজ করা হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.