২৪ ঘন্টাই খবর

ভুট্টা চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা :
চলতি বছর উপজেলার রবিশষ্য ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে উপজেলার ৩৬ হাজার ভুট্টাচাষিদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি। বিগত মৌসুমগুলোর তুলনায় ভূট্টাচাষের জন্যে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর ভূট্টার ব্যাপক ফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর রোগবালাই কম দেখা যায়। ফলে অনেকটা ঝামেলাহীন ভাবে স্বাচ্ছন্দেই ভূট্টা চাষ করছেন এ অঞ্চলের ভুট্টাচাষিগণ। প্রায় দশ বছর থেকে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভুট্টার আবাদ হচ্ছে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে দেওয়ানগঞ্জে ভুট্টা চাষে চাষিদের আগ্রহ বেড়েছে। ধান, গম, আলু, আখ প্রভূতির তুলনায় লাভজনক হওয়ায় এই উপজেলায় ভুট্টাচাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের দেয়া তথ্য মতে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ১ শত হেক্টর জমিতে ভূট্টার চাষ করেছেন ৩৬ হাজার কৃষক। এর মধ্যে প্রদশর্নী প্লট রয়েছে ৫০টি। গত বছর ভূট্টা চাষে শতকরা ৯৫ ভাগের বেশী চাষি লাভবান হওয়ায় এ বছর ভূট্টাচাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ফলন বেশী হবে বলে ধারণা করছেন কৃষিবিদগণ। স্বপ্ল খরচে অধিক উৎপানকারী ফসল ভুট্টা। দেশে ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি পোলট্রি, ডেইরি ও ফিশফিড হিসেবেও এর চাহিদা প্রচুর। এ উপজেলার বিস্তির্ণ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া ভুট্টা চাষের জন্যে উপযোগী। উপজেলার চরাঞ্চলসহ পতিত থাকা বেলে দো-আঁশ মাটির মাঠজুড়ে ভুট্টার ক্ষেত এখন সবার নজর কাড়ছে। এ উপজেলার অধিক ভূট্টাচাষের এলাকাগুলো হচ্ছে বাহাদুরাবাদ, কান্দিরগ্রাম, খোলাবাড়ি, পোল্যাকান্দি, কলাকান্দা, সবুজপুর, হাতিভাংগা, লংকারচর, মিতালী, পাথরেরচর, মৌলভীরচর, ডাংধরা। গত বছরের তুলনায় এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন আশা করছেন চাষিরা। ভালো ফলনের পাশাপাশি ভুট্টার ভালো দাম থাকায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

গত পাঁচ বছরের রেকর্ড অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৪হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করে ৪৪ হাজার ৭০০ মে.টন লক্ষমাত্রার মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ৪৫ হাজার মে.টন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ৪হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করে ৪৮ হাজার ৮০০ মে.টন লক্ষমাত্রার মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ৪৮ হাজার ৮৮০ মে.টন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে ৪হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করে ৫১ হাজার ১০০ মে.টন লক্ষমাত্রার মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ৫১ হাজার ৪৫০ মে.টন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে ৪হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করে ৪৭ হাজার ৭৯৬ মে.টন লক্ষমাত্রার মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ৪৮ হাজার ৩৪৭ মে.টন। ২০১৯-২০ মৌসুমে ৫হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করে ৫২ হাজার ১৬০ মে.টন লক্ষমাত্রার মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ৫৩ হাজার ২০০ মে.টন। চলতি ২০২০-২১ মৌসুমে ৫হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ভূট্টার চাষ করে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৫৪ হাজার ১০০ মে.টন।

উপজেলার নাজির পুরের ভূট্টা চাষি মো. আব্দুর রউফ জানান, গত মৌসুমে ৯বিঘা জমিতে ভূট্টা চাষ করে ব্যয় হয়েছিলো ৮১হাজার টাকা। বিঘা প্রতি গড়ে ৩৩মন ফলন হওয়ায় ভূট্টার বিক্রয় করে পেয়েছিলেন ২লক্ষ ৩ হাজার ৯০০ টাকা। উৎপাদন ব্যয় বাদে তার নীট লাভ হয়েছিলো ১লক্ষ ২৭হাজার৫০০টাকা। চলতি ২০২০-২১ মৌসুমে সে চাষ বাড়িয়ে ১১ বিঘা জমিতে ভূট্টার চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং রোগ বালাই কম হওয়ায় এ মৌসুমে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে অন্যান্য মৌসুমের তুলনায় কম এবং উৎপাদনও বেশি পাবেন বলে আশা করছেন তিনি।

পাথরের চরের ভূট্টাচাষি মো. আব্দুল জব্বার জানান, একর জমিতে ভূট্টা চাষ করতে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ভালো জাতের বীজ হলে প্রতি একরে ফলন হয় ১০০-১১০ মন। অর্থাৎ প্রতি একরে মুনাফার পরিমাণ ৪০ হাজার টাকা। ভুট্টা অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় চাষিরা অলাভজনক অন্য আবাদ ছেড়ে দিন দিন ভুট্টার দিকে ঝুঁকছেন। যে জমিতে অন্য ফসল হয়না সে জমিতে ভুট্টা চাষ করা যায়। গত মৌসুমে সে ৭ বিঘা জমিতে ভূট্টা চাষ করেছিলেন। বিঘা প্রতি ব্যয় হয়েছিলো ৯ হাজার টাকা। ওই মৌসুমে বিঘা প্রতি ৩২ মন ফলন হওয়ায় বিঘা প্রতি উৎপাদন ব্যয় বাদে ঘরে তুলেছেন ২৩ হাজার ২৫০ টাকা। অর্থাৎ গত মৌসুমে তার নীট লাভ হয়েছিলো ১৪হাজার ২৫০টাকা। চলতি মৌসুমে সে ৯বিঘা জমিতে কাবেরী ৫০ জাতের ভূট্টা চাষ করে গত মৌসুমের তুলনায় বেশি ফলন আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ দিলরুবা ইয়াছমিন জানান, চলতি বছর আবহাওয়া ভূট্টাচাষের অনুকূলে রয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেই। ফল আর্মিওয়ার্ম পোকাসহ অন্যান্য পোকার আক্রমণও খুবই স্বল্প পোকার আক্রমণ হবার সাথে সাথেই এ অঞ্চলের কৃষকগণ কীটনাশক ব্যবহার করে পোকার আক্রমণ প্রতিহত করছেন। এ অঞ্চলে আগাম চাষকৃত ভূট্টা মাড়াই শুরু হয়েছে। আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা বহাল থাকলে চলতি বছর এ উপজেলার ভূট্টাচাষীরা ব্যাপক ভাবে লাভবান হবেন। চলতি বছর এ উপজেলায় ৫৪ হাজার ১শত মেট্রিক টন ভূট্টা ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.