২৪ ঘন্টাই খবর

শরিয়তপুরের নড়িয়া থানা এলাকায় জলিল সরদার পরিবারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

এম আনিসুর রহমান/কামরুল হাসান রনি শরিয়তপুর থেকে ফিরে : করোনা পরিস্থিতির আগ মূহুর্তে বেশ কিছুদিন যাবৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুদ্ধি অভিযান চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই শুদ্ধি অভিযান তার নিজের দলের লোক থেকে শুরু করেছেন। “এ্যারোমেটিক ম্যাজিক ল্যাডি” মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, হাইব্রিড নেতা ও দখলবাজদের শক্ত হাতে দমন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উন্নত রাষ্ট্রের শিখড়ে। হাইব্রিড নেতাদেরকেও হুশিয়ারী দিয়ে দমন করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অভিযোগে পদত্যাগ করান। এরপর ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়া ওরফে লেংড়া খালেদকে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র, ক্যাসিনো সরঞ্জামাদি, জুয়া খেলার বিপুল পরিমান টাকা ও মাদক সহ গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো পরিচালনা, চাঁদাবাজি, টেন্ডাবাজি সহ একাধিক অভিযোগ ছিল। খালেদের তথ্য মতে রাজধানীর নিকেতন থেকে যুবলীগের সমবায় সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামিম ওরফে জিকে শামিমকে তার বাসা থেকে বিপুল পরিমান নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, অস্ত্র ও মাদক সহ গ্রেফতার করা হয়। যুবলীগের পর গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনুর কয়েকটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিপুল পরিমান অবৈধ টাকা, স্বর্ণ, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করে। প্রধানমন্ত্রীর তখন এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছিলেন সর্বস্তরের জনগনকে। শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে বলেছিলেন শুধু ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগই নয় এবার অভিযুক্ত কাউন্সিলর সহ নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধ অ্যাকশন নেওয়া হবে।

প্রশাসনের গোপন সূত্রে জানা যায়, ঢাকা সহ আশপাশের জেলা শহরের অপরাধীদের তালিকা আছে তাদের কাছে। যেকোন সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। এমন অভিযোগ উঠেছে শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার ভোজেশ্বর বাজার এলকার তথাকথিত নেতা ওই এলাকার ত্রাস সৃষ্টিকারী জলিল সরদার এর বিরুদ্ধে। তার কর্মীরা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসায়ে সেল্টার, সরকারী-বেসরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখল, ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখানো সহ নানা অপকর্মে জড়িত। জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক র্নিমূলের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করা, মাদক ব্যবসায়ীদের সেল্টার দেয়া, মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীদের দিয়ে মাদক নির্মূল কমিটি গঠন সহ একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তিনি পদ পদবী হীন রাজনীতিতে হাইব্রিড ও নব্য আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে খ্যাত।

সরজমিনে ওই এলাকায় দৈনিক আজকের আলোকিত সকাল পত্রিকার একটি বিশেষ টিম অনুসন্ধানে গেলে ভূক্তভোগীরা তার বাহিনীর এতসব অত্যাচারের বর্ণনা দেন। কোন সুরাহা না পেয়ে কেউ কেউ এখন মৃত্যু পথযাত্রী। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এ সাংবাদিক টিম ওই এলাকায় কাজ করা কালীন জলিল সরদার এর একটি বিশাল ক্যাডার বাহিনী নজরদারী সহ বাস ষ্টান্ড, নৌকা ঘাট, অটোষ্টান্ড সহ বিভিন্ন স্থানে ওৎ পাতে। তাদের চলাফেরা থাকা খাওয়া বিভিন্ন খবরা খবর জলিল সরদার নিতে থাকে যাদের মাধ্যমে তারাই সমস্ত অপকর্ম করে বেড়ায়। আর এ সমস্ত বিষয়ে তাদের এই বাহিনী অনেক সাধারণ মানুষকে অপরাধী বানিয়ে নিজ বাড়ীতে অবস্থিত টর্চার সেলে নিয়ে মারধর করে থানা পুলিশে সপর্দ করে মামলা দেয়। এ বিষয়ে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য জিডি, একাধিক মামলা মোকদ্দমায় জড়িত এসব সাঙ্গ পাঙ্গ সাথে নিয়ে তাদের মাধ্যমে জলিল সরদার তার সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি এসব তথ্য জানায়। গত নির্বাচনের আগে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সাথে রয়েছে জলিল সরদার এর সখ্যতা। কোন এক প্রভাবশালী নেতার তদবীর আর অর্থের বিনিময়ে আগামীতে নড়িয়া থানার জপসা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচনের সপ্ন বুনতে শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যে। নিজ স্বার্থে সে হীন কাজ নেই যে জলিল সরদার করতে পারে না। নিকৃষ্টতর নরপিশাচ এই জলিল সরদার স্বার্থ হাসিল এর জন্য তার নিজ স্ত্রী’কে দিয়ে সাধারণ মানুষ কে ফাঁসাতে ২২/০৪/২০১৫ সালে নড়িয়া থানায় মামলা নং-১৫ দায়ের করে। যাহার ধারা ৩৮৫ পেনাল কোড তৎ সহ নারী শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর (৯) (৪) (খ) ধারা মোতাবেক মামলা রুজু করে। এজাহারে বর্ণনা মতে নাছরিন নাহার (৩০) স্বামী জলিল সরদার থানা গৌরাইল থানা নড়িয়া জেলা শরিয়তপুর সেখানে উল্লেখ যে, আব্দুর রব বেপারী (৪০) মোতালেব বেপারী (৩৭) রজ্জব বেপারী (৩০) সর্ব পিতা মোসলেম বেপারী সাং গৌরাইল নড়িয়া জেলা শরিয়তপুর দ্বয় তারা আপন ৩ ভাই। জলিল সরদার এর নিকট দির্ঘ দিন একলক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করিয়া আসছিলো তারা দাবীকৃত চাঁদার টাকা না পাইলে জলিল সরদার এর স্ত্রী নাছরিন (৩০)কে ধর্ষন এর হুমকি প্রদান করে এবং ২১/০৪/ ২০১৫ ইং রিক্সা যোগে বাবার বাড়ী হতে স্বামীর বাড়িতে ফেরার পথে তার মেয়ে সিথী মনি (১০) সাথে থাকা অবস্থায় রাত ১০.৩০ টার দিকে তাকে উল্লেখিত ভাইদ্বয় উভয়ে রাস্তার পাশে ধর্ষনের চেষ্টা করে। যে ভাবে ধর্ষন চেষ্টা উল্লেখ করা হয়েছে তা বর্নণা যোগ্য নয় এবং পাতানো সাক্ষীর ভিত্তিতে নড়িয়া থানায় এই মিথ্যা মামলা ও রুজু করায় এই নোংরা মনের জলিল সরদার। এছাড়া এই জলিল সরদার কন্টাক্টটারী করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের হক নষ্ট দূর্নীতিতে নাম্বার ওয়ান যাহার প্রমাণ মিলে। ঘটনা ইং২০২০ সালের আগষ্টের দিকে, সে দুই নাম্বার ইট দিয়ে রাস্তা তৈরি কালে ছিটু মাতবর কান্দির ফরিদ মুন্সি পিতা শাজাহান মুন্সি বাধা প্রদান করলে তাকে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দেয় এবং একাধিকবার প্রান নাশের হুমকী অব্যহত রাখে তার উপর। যে কারণে ভয়ে ঘরছাড়া অসহায় হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকজন নামকরা ব্যক্তিরা। এই বাহিনীটি গত কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে ভূমিদস্যুতা চালিয়ে যাচ্ছে জলিল সরদার এর নেতৃত্বে। এই প্রতিবেদক তার সাক্ষাৎকার আনতে গিয়েও নানা প্রতিবন্ধকতা অযাচিত অশোভন মন্তব্যের স্বীকার হয়। পদ পদবী হীন এই নেতা নিজেই পরিচয় দেন সাবেক ছাত্রলীগনেতা হিসাবে। দখলদারদের শেল্টারদাতা হিসাবে পরিচিত এই আন্ডার গডফাদারের এতটাই প্রভাব যে রাজনৈতিক এবং আর্থিক পেশি শক্তির কাছে অসহায় অনেকেই। তার ব্যাপারে কেউ মূখ খুললে নেমে আসে চরম নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার খরগ। ওই এলাকার মিরাজ তালুকদার পিতা মৃত ছোকরী তালুকদার তার বাড়ী জপসা ইউনিয়ন খাঁটি কান্দি ২নং ওয়ার্ড। নিজ বাড়ীতে ১ বছর আগে চাচাতো ভাইয়ের সাথে বাড়ীর সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দন্দ বিবাদ হলে এই ফিটিং বাজ জলিল সরদার মোটা অংকের টাকা দাবী করে। সে দিতে অস্বীকার করলে জমি দখল করে নিবে প্রানে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি ধামকি দেয় এবং তার পেটোয়া বাহিনী নিয়ে তার বাড়ীতে চড়াও হওয়া সহ তাকে বহু লাঞ্চিত করে। অত্র এলাকায় অনুসন্ধান কালে তার ব্যাপারে কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করাও যেন মহা পাপ! সবাই যেন অদৃশ্য আতঙ্কিত হয়ে পরে। তথ্য অনুসন্ধান সম্পন্নকরণে সাংবাদিক টিম যায় জপসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বয়াতির বাড়ীতে। তিনি শারিরীক দুর্বলতা ও অসুস্থ থাকার দরুন তার কাছ থেকে তেমন কিছু যানা যায়নি, তবে বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে জলিল সরদার এর নির্বাচনে প্রার্থীতার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, সে নির্বাচনে দাঁড়াবে এটা তার অধিকার তবে আমার এলাকার জনগণের ভোটের রায়ে সে দাঁড়াবে বলে ঘোষনা দিয়ে যদি জন সমর্থন পায় তাহলে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে তার নির্বাচনে দু’লক্ষ টাকা খরচ হিসাবে দিব, তবে জনতার অভিনন্দন পাওয়া এত সহজ কথা নয়। আমার তাতে বিন্দু পরিমান আপত্তি নেই। তিনি আরও জানান, আমার এলাকার এম পি মহোদয় সহ সকলে জানে আমার বড় ভাই নজরুল ইসলাম (নূরু) বয়াতি আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছেন। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিবার। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার বোন যদিও অন্য এলাকার চেয়ারম্যান, আমরা চেয়ারম্যান পরিবার। আমাদের বাবা আমাদের জন্য অনেক কিছুই করে রেখে গেছেন জনগণের হক বা সরকারী বরাদ্ধ নষ্ট করার আমাদের কোন প্রয়োজন হয় না। আপনারা সাংবাদিক যদি আমাদের ব্যাপারে কেউ কোন দূর্নীতির তথ্য বা প্রমাণ দিতে পারে এলাকায় কোন মানুষ বলে আমরা খারাপ আপনারা তথ্য অনুসন্ধানে যদি পান তাহলে সাথে সাতে পদত্যাগ করবো বলেও আরও বিভিন্ন মত প্রকাশ করেন। ওই এলাকার একাধিক সাধারণ মানুষের উক্তি হলো কোন বিশৃংখলা জটিলতার কোন তথ্য বা ঘটনা থাকলে ওই একজন ব্যক্তি জলিল সরদার ছাড়া তারা প্রশাসনিক রাজনৈতিক বা উন্নয়ন কোন কিছুতেই তাদের দ্বিমত পোষণ করার মত অভিযোগ অনুযোগ নেই তাদের।

Leave A Reply

Your email address will not be published.